Tuesday 25 January 2022
- Advertisement -

Trinamool Winning, But… তৃণমূল জিতছে, কিন্তু…

[Translation in English appears after the text in Bengali]

[dropcap]এ[/dropcap]ই বারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোট অনেক অর্থেই অভূতপূর্ব। যেমন এর আগে দেশে কেউ ভাবেনি যে সিপিএম আর কংগ্রেস একসাথে জোট করে ভোটে লড়তে পারে ঠিক তেমনি এর আগে ভারতবর্ষে একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ভোট চেয়ে এরকম কাতর আবেদনও জনগণ প্রতক্ষ্য করেনি। এর আগে ভারতবর্ষের গনতন্ত্রের ইতিহাসে সম্ভবত কোন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়নি যে তিনি ভোট পাওয়ার জন্য চড় খেতেও প্রস্তুত।

এই ভোটে সিপিএম এবং কংগ্রেসের জোট হওয়াতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের যে চিরাচরিত হিসাব তা অনেকাংশেই কেঁচেগণ্ডূষ হয়ে গেছে। একদিকে এই প্রথমবার যেমন একদিকে মুসলিম ভোট ভাগ হয়েছে, ঠিক তেমনি গ্রামীণ বাংলায় অনেকক্ষেত্রে হিন্দু ভোট একত্রিত হয়ে ভোট ব্যাঙ্কে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবাংলায় সেই ৮০’র দশক থেকেই দেখা গেছে মুসলিম ভোট সাধারণত যেকোন একটি দলই পেয়ে থেকে। বস্তুত এই ভোট ব্যাঙ্কের দৌলতে এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার নানাবিধ কৌশলেই বামেরা ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদে আসীন থেকেছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরকারে আসার পরেই দ্রুত এই পন্থা অবলম্বন করেছেন। যার প্রতিফলন ঘটেছিল এই বছরের শুরুতে পশ্চিম বাংলার পুরসভার ভোটগুলিতে। যেখানে শুধু সাধারণ ভোটারদের উপরেই নয় নজিরবিহীন ভাবে ভোটের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের উপরেও আক্রমণ নেমে আসে।

বামেদের আমলে পুলিশকে দলদাসে পরিণত করা হয়েছিল কিন্তু মমতার আমলে তা চরম নির্লজ্জ আকার ধারণ করে। যার ফলে কখনো গার্ডেনরিচে পুলিশকে গুলি খেয়ে মরতে হয়েছে আবার কখনও বীরভূমে পুলিশকে বোমার আঘাতে মরতে হয়েছে। আবার কখনও খাস কোলকাতার বুকে পুলিশকে ফাইল ঢাকা দিয়ে টেবিলের নিচে লুকোতে হয়।

পশ্চিমবঙ্গের আপামর জনসাধারণ এই বিধানসভার ভোটে নির্বাচন কমিশনের কাছে এই কারণেই কৃতজ্ঞ যে কমিশনের তৎপরতার জন্য পুলিশকে বহু বছর বাদে পুলিশ বলে মনে হয়েছে।

কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ বলা যায়। এটা আলাদা বিষয় যে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রথমে তাঁর উন্নয়নমূলক কাজের ফিরিস্তি দিয়ে শুরু করলেও খুব দ্রুত তা থেকে সরে এলেন এবং জনতার সামনে নিজের সেই পুরনো বিরোধী নেত্রীর রূপ তুলে ধরতে চেয়ে কখনও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমন করলেন আবার কখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। বস্তুত এই নির্বাচনে তিনি তার গত ৫ বছরের কাজের কোন দলিলই পেশ করলেননা। কখনও তিনি কৈফিয়ত দিতে ব্যস্ত থাকলেন যে তিনি চড় খেতেও প্রস্তুত আবার কখনও তিনি জানালেন যে তিনি বাসন মাজতেও প্রস্তুত! তিনি এটা বুঝলেন না যে পশ্চিম বাংলার জনগণ তাকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসিয়েছে বাসন মাজা বা চপ শিল্প গড়ে তোলার জন্য নয়। জনতার যে আবেগে সওয়ার হয়ে তিনি ৫ বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তা এখন সম্পূর্ণ অন্তর্হিত। এমনকি ৫ বছর আগের বিধানসভা ভোটের সময় যে “সততার প্রতীক” মার্কা ব্যানারে চারিদিক ছয়লাপ হয়ে গেছিল সেই সততার প্রতীক মার্কা প্রচার এবারে কোথাও দেখা গেলনা।

অপরদিকে সিপিএম দীর্ঘ ৩৪ বছর সরকারে থাকার পর এই প্রথম তারা বিরোধী দল হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা তাদের জন্য সঠিক পন্থাই অবলম্বন করলেন। এই পন্থা হল শুধু মমতার বিরোধিতা করা। যাতে সার জল জুগিয়েছে সারদা-নারদার মত আর্থিক কেলেঙ্কারীর এবং সর্বশেষ উড়ালপুল ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা। সিপিএম জানে তাদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের ব্যর্থতা বিস্মৃত হয়নি। শিক্ষা থেকে কৃষি, শিল্প সর্বক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা এখনও মানুষের স্মৃতি থেকে বিলীন হয়নি। এক্ষেত্রে তারা যেটা করতে পারতেন সেটাই করেছেন। তা হল মমতার ব্যর্থতাগুলো আরও বেশী করে তুলে ধরা। আর মমতাও এই ফাঁদে পা দিয়ে এর পাল্টা দিতে গিয়ে নিজের সরকারের কাজকর্মের হিসাব দেওয়া ভুলে বিরোধিতার পাল্টা বিরোধিতায় নেমে পরলেন।

কংগ্রেস এবং বিজেপি এই দুই জাতীয় পার্টি পশ্চিমবঙ্গের পটভুমিকায় নেহাতই পার্শ্বচরিত্র এযাবৎ। তবে এই বিধানসভা ভোটে গ্রামীণ বাংলায় বিশেষ করে মালদা ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হিন্দু ভোট একত্রীকরণ হয়ে ভোট ব্যাঙ্কে পরিণত হওয়ার সর্বাধিক লাভ বিজেপিই পাবে। গ্রামীণবাংলাতে হিন্দু ভোট একত্রিত হলে যেমন বিজেপির জন্য ভালো তেমনি তা তৃণমূলের জন্যও সহায়ক হবে পুনরায় সরকার গড়তে। মালদা ও উত্তরবঙ্গের বিজেপি শক্তিশালী হওয়ার অর্থ তা বামেদের জন্য লোকসান কারণ উত্তরবঙ্গে বামেদের ও কংগ্রেসের শক্তি এখনও অটুট। কাজেই এখান থেকে বিজেপি যদি কিছু সিট পায় তা বামেদের চিরাচরিত ভোট ব্যাঙ্কে ভাঙ্গন ধরিয়েই পাবে।এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেটা করতে পারতেন সেটাই করলেন। লড়াইটা তৃণমূল বনাম বিজেপিতে পরিণত করতে চাইলেন। এতে বিজেপির যা লাভ তার থেকে অনেক বেশী লাভ তৃণমুলের। কারণ এপর্যন্ত হয়ে যাওয়া ছয় দফার ভোটে জোট এবং তৃণমুল প্রায় সমান-সমান পরিস্থিতিতে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মমতা বাংলার রাজনীতির নাড়ি সবথেকে ভালো বোঝেন, তিনি জানেন এখানে ভোট বরাবরই দ্বিমাত্রিক। লড়াইটা দুই প্রধান শক্তির মধ্যেই হয়। কাজেই শেষ দফার যে ভোট সেখানে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে এবং পূর্ব মেদিনীপুর থেকে তাকে যত বেশী সম্ভব ভোট সংগ্রহ করতে হবে সরকার গড়তে গেলে। আর তাছাড়া লড়াইটা যদি তিনি তাঁর আর বিজেপির মধ্যে দাঁড় করাতে পারেন তাহলে শেষ দফার ভোট যা মুলত গ্রামীণ বাংলায় সেখানে তার ভিক্টিম প্লে করে সহানুভুতির হাওয়ায় ভোট কুড়তে সুবিধাও হবে।

কোচবিহার অঞ্চলে গ্রেটার কোচবিহার পিপলসের সাথে বিজেপির জোট এক্ষেত্রে বিজেপিকে খানিকটা এগিয়ে রাখছে বাম-কংগ্রেস জোটের থেকে। আরেকটি বড় ঘটনা যা এই ভোটে নিশ্চিত ভাবে প্রভাব ফেলবে তা হল কমল গুহের পুত্র উদয়ন গুহের ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান। এরফলে ভোট বাক্সে কোন প্রভাব পড়বে কিনা সে বিষয়ে কোন দলই নিশ্চিত নয়। কাজেই এক্ষেত্রেও রয়েছে অনিশ্চিয়তা। সাধারণ ভাবে ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটেও দেখা গেছে এই অঞ্চলে বামেদের ভোট অটুট কিন্তু বিজেপি লক্ষণীয় ভাবে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। আরেকটি বিষয় যা নিশ্চিতভাবে এই অঞ্চলের ভোটে প্রভাব ফেলে তা হল বিজেপির প্রতি গোর্খা জনমুক্তির সমর্থন। যা এই অঞ্চলের বিধানসভা ভোটে অনেকখানি প্রভাব বিস্তার করবে। সেক্ষেত্রে ভোট পূর্ববর্তী পূর্বাভাস অনুযায়ী যদি বিজেপি ৪ থেকে ৫ টি আসন পায় এবং অন্য জায়গায় নিজেদের ভোট বাড়িয়ে বামেদের পথে কাঁটা ছড়াতে পারে তাহলে লাভ বিজেপির। সেক্ষেত্রে বহু জায়গায় হয়ত দেখা যাবে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রার্থীর হারা জেতার ব্যবধান বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের প্রায় সমান।

এপর্যন্ত হওয়া ভোটে যা বোঝা যাচ্ছে, জোট হওয়ার ফলে বামেরা পশ্চিম মেদিনীপুরে তাদের হারানো জায়গা হয়ত অনেকটাই ফিরে পাবে। তবে জঙ্গল মহলে তৃণমুলের আধিপত্য বজায় থাকবে। উত্তরবঙ্গে বাম এবং কংগ্রেস আসনে জয় লাভ করলেও দার্জিলিঙে বিমল গুরুঙ্গের নেতৃত্বাধীন গোর্খা জনমুক্তি তাদের শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখবে। দক্ষিণবঙ্গের হুগলী ও বর্ধমানে তৃণমুল তাদের শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখবে। তবে দুই ২৪ পরগনা ও হাওড়া জেলার চিত্রটি এখনও পরিষ্কার নয়। এই জেলাগুলিতে নির্ণায়ক ভুমিকা নেবে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক। আগেই বলেছি এই প্রথম বার সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক ভাগ হচ্ছে এবং এর ভাগ তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে কে কতটা পাবে তার উপরেই নির্ভর করছে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড়ের বিষয়টি। তবে হাওড়া ও দুই ২৪ পরগনাতে এই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক ভাগ হওয়ার সুফল অনেক ক্ষেত্রেই বিজেপির কপালেও জুটতে পারে। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বিধানসভা উপনির্বাচনে এই ভোট ভাগ এবং হিন্দু ভোটের একত্রীকরণের ফলে বিজেপি বসিরহাট দক্ষিণের আসনটি জিতে প্রথমবার একা লড়ে বিধানসভায় তাদের খাতা খুলেছিল। এই আসনটি যে বিজেপি এবারেও জিতছে তা একপ্রকার নিশ্চিত করেই বলা যায়। একথা বলাই জেতে পারে এবারের ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ হবে দুই ২৪ পরগনা এবং কলকাতা ও হাওড়া জেলাগুলির আসনগুলির মাধ্যমে।

তবে আরেকটি জেলাও এক্ষত্রে নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে তা হল বীরভুম। এই জেলাতে তৃণমুলের গোষ্ঠীদ্বন্দ চরম আকার ধারণ করেছে। তা এতটাই যে তৃণমুল এই জেলার বেশ কিছু জায়গায় বুথে পোলিং এজেন্টও দিতে পারেনি। আর সেই সঙ্গে কমিশনের অতি সক্রিয়তার কারণে অনুব্রত মন্ডল মনিরুল ইসলামরা তাদের চিরাচরিত গুড় বাতাসা দিয়ে ভোট করানোর পন্থাটি অবলম্বন করতে পারেনি, যার ফলে হয়ত শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার ফলে বহু মানুষ যারা নিজেদের ভোট নিজেরা দিতে পেরেছেন সেই ভোটগুলি কোন দিকে পড়বে তা বোঝা যাচ্ছেনা। ঠিক একই পরস্থিতি দুই ২৪ পরগনাগুলিতেও। আপনারা শুনলে অবাক হবেন বহু মানুষই এই জায়গাগুলিতে এই প্রথমবার নিজের ভোট নিজে দিলেন। আর এই কারণেই সাধারণ ভোটাররা একযোগে নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। এই জায়গাগুলিতে যদি তৃণমূল তার শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে সেক্ষত্রে তৃণমুল হয়ত ১৬৫ থেকে ১৮০ আসন জিতে সরকার গড়বে। আবার যদি সেই শক্তি ক্ষয়ের দরুন জোটের লাভ হয় তাহলে তৃণমুলের আসন কমে ১৪০ এর কাছাকাছি চলে আসতে পারে আর সেক্ষত্রে জোট এবং তৃণমূল প্রায় সমান সমান হবে আর বিজেপির আসন প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশী হবে।

আরেকটি বিষয়ও এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিতে পারে তা হল বামফ্রন্টের বাকী শরিকদের ভুমিকা। অনেকক্ষেত্রেই ফরওয়ার্ড ব্লক বা আর এস পি তাদের নিজেদের পছন্দ মত আসন না পাওয়ায় বা নিজেদের জেতা আসনগুলি ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ার পর তাঁদের সমর্থকরা জোটের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকবেন কিনা নাকি তারা তৃণমুলকে তাদের প্রথম পছন্দে পরিণত করেন। নাকি তারা বিজেপির দিকে ঝোঁকেন বিশেষ করে এদের যেখানে শক্তি সেই মালদা বা মুর্শিদাবাদে ইসলামিক আগ্রাসন বাড়ার কারণে বিজেপির দিকে ঝোঁকেন। বিশেষ করে যেখানে কালিয়াচকের স্মৃতি এখনও তাদের মনে জলজ্যান্ত। এই অঙ্কের বিচারেই হয়ত বিজেপি মালদার বৈষ্ণবনগর বা চিরাচরিত কংগ্রেসি আসন নওদায় চমক দিতে পারে। আবার হিন্দু ভোট একত্রীকরণের কারণে হাওড়ার আমতার মতো সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত আসনে ভালো ফল করতে পারে। আবার উন্নয়নে ভর করে আসানসোলের মতো শিল্পাঞ্চলে ভালো ফল করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আমার ধারণা তৃণমুল যদি দক্ষিণবঙ্গে তার শক্তি ধরে রাখতে পারে আর জোট যদি উত্তরবঙ্গে তাদের শক্তি অটুট রাখতে পারে সেক্ষেত্রে তৃণমূলের আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ১৬০ থেকে ১৭০ আর জোট ১১০ থেকে ১২০। বিজেপিকে সেক্ষত্রে ৫ থেকে ১০ টি আসন পাবে এবং এস ইউ সি আই তাদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার আসনটি আর গোর্খা তাদের তিনটি আসন ধরে রাখতে সক্ষম হবে। তবে যদি দ্বিতীয় সম্ভবনাটি তৈরি হয় সেক্ষত্রে বাংলার রাজনীতিতে অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হবে। সেক্ষত্রে হয়ত বিজেপি নির্ণায়ক ভুমিকা নেবে; তৃণমূল এবং জোট দুই পক্ষই ১৩০ থেকে ১৪০র মতো আসন পাবে। এমতাবস্থায় দেখার বিষয় ভোটের পরে জোট অটুট থাকে নাকি বিজেপির উত্থান আটকাতে কংগ্রেস এবং তৃণমুল হাত ধরে। নাকি জোট তৃণমূলকে সরকার গড়তে দিয়ে চাপে রেখে তারপরে বছর দুই পরের অকাল ভোটের চেষ্টায় যায়। এমনটি হলে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেবে। যার ফলে হয়ত কংগ্রেস এখনি জোট না ভেঙ্গে বছর দুই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবে। আরেকটি বিষয়ও নজরে রাখার যে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা হলে মমতা নিজে তাঁর দলের ওপরে কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।

পশ্চিম বাংলার ভোট প্রায় শেষ পর্যায়ে, আরেকটি পর্যায় বাকী আছে আর তারপরে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা ১৯শে মে’র দিকে তাকিয়ে। আরেকটি বিষয় দেখার তৃণমূল সরকার গড়লেও তাদের কোন ইন্দ্রপতন ঘটে কিনা। সেরকম কিছু হলেও কিন্তু তা মমতার জন্য কম বিড়ম্বনার হবেনা। দেখার মানুষ সারদা-নারদা খ্যাত নেতাদের বর্জন করে বাম বা কংগ্রেসকে সেই জায়গা ফিরিয়ে দেন নাকি নতুন বিকল্পের খোঁজে বিজেপিকে পছন্দ করেন। নাকি মানুষ এখনও তাদের বামেদের প্রতি বিরাগ থেকে তৃণমূলকেই মন্দের ভালো মনে করেন।


[dropcap]T[/dropcap]he people of West Bengal are witnessing an election that is unique in many ways. For the first time they are seeing the CPI(M) and Congress fight an election in an alliance, which nobody had before this election season imagined. The people of Bengal have never seen a chief ministerial candidate begging for votes like this — she is even ready to get slapped if that can ensure some votes! For the first time people of Bengal are seeing the CPM-led Left front fight an election as the chief opposition and not as the ruling coalition. It is the first time people of Bengal have seen a chief minister who is the police minister as well, threatening personnel of her own department of post-poll consequences. For the first time, people of Bengal have seen even children not being spared from poll violence.

After the Left Front made an with the Congress, hitherto applicable psephology no longer applies. On the one hand, Muslim votes are getting divided for the first time. On the other, votes are consolidating in many places and even Hindus have become a vote bank now! Since the 1980s, Muslims had been voting en bloc for one given party or coalition they wanted to win. It depended on who they thought would safeguard their interests. In fact, because of such vote banking — and some other tactics — the Left Front could rule the State for 34 years. The Muslim vote bank shifted to Mamata Banerjee in 2008 and she won the election in 2011. Thereafter, she adopted the same tactics that the CPI(M) would in order to stay in power. The proof of this is the municipal corporation election that happened earlier this year in Lake where ordinary citizens had to face ruthless violence by TMC goons. The hooligans did not spare even reporters who were covering the election.

Under the communist regime, the CPI(M) had converted the police into a wing of the party. Mamata Banerjee actually went a step further. She brazenly handicapped the police. We saw its manifestation in the murder of a cop in Garden Reach sometime ago and the accidental death of TMC’s goons in Birbhum when the bombs they were dealing in exploded. Imagine a cop seeking shelter under the table in a police station, covering himself with a file when the TMC’s militia attacked the Alipore police station in Kolkata. The police looked on like mute spectators.

But as the election approached, the Election Commission pulled up the provincial government for the law-and-order situation and the people of Bengal are now grateful to the agency as they witness after many years the men in uniform are exuding the confidence of true policemen. They have suddenly turned so assertive that even their minister, the Chief Minister of Bengal is issuing threats to them. Mercifully, they are not paying heed to that.

Except for some stray incidents, this election for the West Bengal Assembly can be called peaceful. It is a different story altogether that the manner in which Banerjee has slammed the Election Commission and central forces has no precedence. She had started her election campaign, talking about the “development” work her government has done in the last 5 years, but soon she realized that there was not much to boast of. So, she altered her campaign strategy and tried to put up her old image — that of an angry opposition leader — at the hustings. She went on to say she was ready to get slapped or ready to wash utensils at households to salvage her image of an honest political leader. It did not occur to her that people of Bengal had chosen her as the State’s chief executive not to get slapped or do household chores, but to show to them a new dawn. Now that her façade of honesty is no longer promising to fetch her votes, banners celebrating the integrity of her character no longer dot the skyline of Bengal as they did 5 years ago. Even a second Assembly election win will not be able to repair the damage to her credibility.

On the other side, the Left Front has taken the right direction. They knew the people of Bengal have not forgotten their failure in every field, be it education, agriculture or industry. To hide their history, they are attacking the Chief Minister relentlessly, projecting her shortfalls more and more rather than explaining their own policy or enlisting the changes they would bring about if they were to win the election this time. Banerjee fell in this trap, forgetting to campaign on a positive note. She launched a counterattack and played the victim.

As such, the Congress and BJP are also-rans in this election, but the latter may gain due to the consolidation of votes in rural Bengal, especially in places like Malda and Murshidabad where people are witnessing Islamic aggression every day. The consolidation will prove beneficial for the TMC, too. In fact, it will be benefited more. The BJP’s gains in votes in places like Malda and the rest of north Bengal will be at the cost of the Left or the Congress.

Banerjee deliberately turned the fight bipolar in these parts — between her party and the BJP. From the six phases of the election that have happened, it seems that the TMC and Left-Congress are running neck-and-neck. The last phase will be the decider. The Chief Minister understands Bengal politics like the back of her hand. She knows that the election in the State finally turns bipolar, always. So, this is how it is playing out: Cooch Bihar will witness the last phase of election along with East Medinipur. In Cooch Bihar, the BJP’s alliance with the Greater Cooch Bihar Party has an edge over that between the Left and Congress. The BJP will get the advantage of its alliance with the Gorkha Mukti Morcha in the Terai and Dooars regions. Kamal Guha, the son of formidable Forward Bloc leader Udayan Guha, joining the TMC will leave an impact in Cooch Bihar. If the BJP holds onto the vote share of Lok Sabha elections and wins 4-5 seats from north Bengal, many calculations will be upset. In many seats, the votes the BJP gets might be equal to the difference between the winning and losing candidate. That means Advantage TMC.

If I am following the public mind correctly, the Left-Congress will recover from its losses in the last election in many seats of West Medinipur, but the TMC will hold on its vote share in the Jangal Mahal area. In north Bengal, the Left-Congress alliance will win the majority of the seats, but the Gorkha Mukti Morcha will hold on to its current 3 seats of Darjeeling, Kalimpong and Karsiang.

In south Bengal’s Burdwan and Hooghly districts, the BJP may open its score in the industrial belt of Asansol. Nadia will remain a stronghold of the TMC. The picture is not clear in the North 24 Parganas, South 24 Parganas and Howrah. These 3 districts and East Medinipur are holding the keys to government formation. Here, the minority community is the deciding factor. As said before, since this vote bank is getting divided this time, whoever gets more Muslim votes will taste success. The BJP may sneak through if the divide is 50-50 and Hindus vote for it en masse. Already, this party has opened its account in North 24 Paraganas by winning the by-election in 2014; it will win this seat again.

Another district that may become vital in this election is Birbhum. The infighting in the TMC has peaked in this district. It is so bad that the TMC has not been able even to put booth agents in many places. At the same, due to active monitoring by the Election Commission, the likes of Anubrata Mandal and Manirul Islam have not been able to manipulate the polls, which also can become a major factor. Same is the situation in the two 24 Parganas. Readers will be surprised to know that many people in these places have been able to cast their votes for the first time. That is what the commoners are thanking the Election Commission for. That is the reason nobody is able to predict the exact outcome of this election. If the TMC can retain these seats, they will form the government by winning around 165 to 180 seats. If the gains in vote share, the TMC may come down to 140 seats. In that eventuality, the TMC and Left-Congress alliance will get almost equal seats and the BJP produce better results than expected.

The allies of CPI(M) like the Forward Bloc and RSP are another factor. They got into scuffles with the Congress in districts like Murshidabad, Malda and north Bengal over seat-sharing. It is not clear whether their traditional voters will still support the or they turn to the TMC or BJP, especially in places like Kaliachak where nobody denies the atrocities of Islamists. In such a scenario, the BJP may spring a surprise by winning traditional Congress seats like Baishnab Nagar and Naoda. It may also snatch victory in Amta of the Howrah district due to the consolidation of votes.

If the TMC can hold on to its support base in south Bengal, they can get around 175 seats. The will get around 110 seats. The BJP will get 5 seats. The Gorkhas and SUCI’s tallies will be 3 and 1 respectively. But if the TMC loses the vote share in south Bengal, the State will witness a never-before situation after this election. The alliance and the TMC will get around 140 seats each and the BJP will surprise all by winning many seats, probably holding the key to government formation. In that situation, we need to watch what formation takes place after the polls. Whether the alliance remains intact or the Congress takes the side of the TMC to halt the BJP’s growth in Bengal or the whole alliance lets the TMC form the government with an eye on a possible mid-term poll in 2019. The equations of the 2019 Lok Sabha election will then turn very important. Maybe the Congress waits for another 2 years to take a final decision. Also watch out for Mamata’s writ running or ceasing to run in the TMC in that situation.

The West Bengal election is in its last phase. We have another phase and then an anxious wait till 19 May. Will all the ministers of the present government win? The loss of any sitting minister will not be good news for Banerjee. We need to see if the people of Bengal reject the infamous leaders allegedly involved in scams like Saradha and Narda and opt for the Left-Congress alliance, or they go for the BJP as a new option. Or, will they repose their faith in the TMC due to their hatred for the CPI(M)?

Diptasya Jash
Techie hailing from Bengal, working in Kolkata

Get in Touch

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
spot_img

Related Articles

Editorial

Get in Touch

7,493FansLike
2,450FollowersFollow
0SubscribersSubscribe

Columns

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x
[prisna-google-website-translator]
%d bloggers like this: