Wednesday 8 December 2021
- Advertisement -
ViewsArticleবিস্ফোরণের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গ, নীরব রাজ্য সরকার

বিস্ফোরণের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গ, নীরব রাজ্য সরকার

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচক আন্তর্জাতিক মৌলবাদী এবং বিদেশি অপরাধীদের পক্ষে প্রকৃষ্ট ও সহজ আশ্রয়স্থল

-

- Advertisment -
Sagnik Chakraborty
A writer, editor, translator and teacher of languages based in Hyderabad, he serves this portal as a contributing editor

আবার কালিয়াচক, মালদার কালিয়াচক। কালিয়াচকের করারিচাঁদপুর পাটুয়াটুলি গ্রামে দিন দশেক আগে মাটির তলায় পাওয়া গেল গোপন অস্ত্র তৈরির কারখানা। প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়েছে পাটুয়াটুলীর ৩৭ বছরের হুমায়ুন শেখ, কিন্তু সুবিশাল সরঞ্জাম এবং বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সম্ভার দেখে পুলিশের সন্দেহ এত বড় অবৈধ কর্মকাণ্ডের পিছনে আছে আরও বড় মাথা, বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং সংগঠিত লোকবল।

যত কাণ্ড সেই কালিয়াচকেই। ২০১৬-র নতুন বছর শুরু হতে না হতেই যেখানে জ্বলে উঠেছিল দাঙ্গার আগুন। যার শুরুটা হয়েছিল ধার্মিক অনুভূতিতে আঘাত লাগার ধুয়া তুলে, কিন্তু যা অচিরেই বদলে যায় হিংসাত্মক দাঙ্গায়, যার আগুন সহজে নেভানো যায়নি। আপাত দৃষ্টিতে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল সুদূর উত্তরপ্রদেশে, প্রথমে সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানের আরএসএসের প্রতি করা আপত্তিজনক মন্তব্য এবং তার পাল্টা হিসেবে করা হিন্দু নেতা কমলেশ তিওয়ারির নবী মোহাম্মদের প্রতি করা পাল্টা আপত্তিজনক মন্তব্য থেকে। যদিও কমলেশ তিওয়ারিকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়, তবু “নবীর প্রতি অশালীন শব্দপ্রয়োগের শাস্তি হিসেবে তার ফাঁসি চাই” এই দাবিতে শুরু হয়েছিল মুসলিম সমাজের মধ্যে প্রতিবাদ। পশ্চিমবঙ্গে ৩ জানুয়ারি তারিখে মালদার কালিয়াচকে জড়ো হয়েছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ।

এর পরে যেটা হয় সেটা আর যাই হোক একজন ব্যক্তির “কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদ” অবধি সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের জমায়েত থেকে লেগে যায় দাঙ্গার বিস্তৃত আগুন, যা ছড়িয়ে পড়ে গোটা কালিয়াচক অঞ্চলে। আগুন লাগানো এবং ভাঙচুর করা হয় ব্যাপক হারে। একদিকে কালিয়াচক থানা ও BDO-অফিসের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, অন্যদিকে BSF-এর গাড়ি এবং অন্যান্য সরকারি ও সরকারি যানবাহন, এই অন্ধ আক্রোশ থেকে বাদ পড়েনি কিছুই। হিন্দুদের মন্দির এবং পূজার জায়গাও ছিল এই তামসিক আসুরিক আক্রোশের অবশ্যম্ভাবী শিকার।

আবার কালিয়াচক
প্রয়াত, নিহত কমলেশ তিওয়ারি

অনেক প্রশ্ন উঠেছিল সেদিন। আড়াই লক্ষ মানুষ কি করে জমা হল? এত বড় সংখ্যক মানুষের জমায়েতের অনুমতি কে দিয়েছিল? পরিস্থিতি এভাবে আয়ত্তের বাইরে চলে গেল কেন? এর মোকাবিলা করার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কি? সর্বোপরি, সুদূর উত্তরপ্রদেশে রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে বলা একজন মানুষের একটি কথায় ধার্মিক অনুভূতিতে আঘাত লাগার জন্য এই বঙ্গদেশে পুলিশ থানা, BDO-অফিস ও BSF-এর গাড়ি আক্রমণ করা হল কেন? এমন বিপুল জনরাশির দ্বারা এত বড় আকারের একটা ভয়ঙ্কর দাঙ্গাকে কি স্বতঃস্ফূর্ত বলা চলে?

নাকি এটা ছিল পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত, ঠাণ্ডা মাথায় আগের থেকেই ছকে নেওয়া? এবং ধর্মীয় স্বতঃস্ফূর্ততার জিগিরটা পুরোটাই একটা smokescreen বা ধাপ্পা?

উত্তর মিলেছে খুবই কম। বরং রাজ্য সরকারের নীরবতা ছিল কানে তালা ধরিয়ে দেওয়ার মত। সোজাসুজি প্রশ্ন এড়াতে অর্থহীন অজুহাত বারবার অন্য দিকে নির্দেশ করেছে। এবং অতি ভয়ঙ্কর সেই ইঙ্গিত।

উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থিত মালদা জেলার পশ্চিমদিকে পাশের রাজ্য ঝাড়খন্ড ও বিহার এবং ঠিক পূর্বদিকেই প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ। কালিয়াচক এলাকায় অবৈধ আফিমের চাষ অনেক দিন ধরে চলে আসছে। স্থানীয় থানায় আধিকারিকদের কাছে অনেক অবৈধ আফিমচাষী এবং আফিমের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নালিশ, FIR, রেকর্ড ইত্যাদি রাখা আছে। “ইসলামের অপমান হয়েছে” এমন ধর্মীয় জিগির তুলে দাঙ্গা শুরু করে এই সরকারি রেকর্ডগুলি নষ্ট করে ফেললে সাপও মরে অথচ লাঠিও ভাঙে না।

বৃত্তটি সম্পূর্ণ বুঝতে গেলে আরেকটু লাইন ধরে এগোতে হবে। কিছুদিন যাবৎ অবৈধ আফিম চাষের সাথে যোগ হয়েছে ইসলামীয় মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত। কারণটি অনেকাংশে রাজনৈতিক। মালদা এলাকায় মুসলমানরা অতীতে পীরদের অনুগত ছিলেন এবং এলাকার হিন্দুদের সাথে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করতেন। বামফ্রন্ট সরকারের শেষ বছরগুলি থেকে এখানে চরমপন্থী ওয়াহাবি ইসলামের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়, যা বর্তমান তৃণমূল সরকারের আমলে ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেরলে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে ইসলামে ধর্মীয় ট্রেনিং আসা এবং তারপর কিছু মাদ্রাসা বা মক্তবে ওয়াহাবি সম্প্রদায়ের মৌলবাদী আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া, এটি এখন এক সহজ modus operandi। বর্তমান তৃণমূল সরকারের ঘোষিত নীতি, “যে গরু দুধ দেয়, তার লাথিও সহ্য করব।” মৌলবাদের ধ্বজাধারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকারের বাধছে দেখে প্রশ্ন ওঠে তোষণনীতি কি তাহলে সরাসরি মৌলবাদীদের জন্য?

৩ জুন ৩০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার সহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল মালদা কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ

চরমপন্থী সংগঠন জামাত-ই-ইসলামি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এই দলের অনেক নেতৃস্থানীয় মানুষ আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ভারতে ঢোকে। এদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে অপরাধমূলক কাজের জন্য পলাতক। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই কালিয়াচক এই ধরণের আন্তর্জাতিক মৌলবাদী এবং বিদেশি অপরাধীদের পক্ষে প্রকৃষ্ট আশ্রয়স্থল। স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে চরমপন্থা এবং প্রয়োজনে তাদের দাঙ্গায় ব্যবহার করা সুতরাং বর্তমান ক্ষেত্রে মালদায় অনেকেই সহজ হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মৌলবাদের অন্যতম সর্ববৃহৎ শত্রু ভারত। ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে সাত হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা আজও কোনো চির না ধরে বয়ে চলেছে। উৎপত্তিগত এবং জাতিগত বিভেদের ঊর্ধ্বে সবাই এই ভারতীয় সভ্যতার অংশীদার হয়ে উঠে একসাথে পথ চলেছে। মেসোপটেমিয়া, মিশর, পারস্য, গ্রীস, রোম, চীন, কোথাও এমন culture in continuum দেখা যায় না যেখানে পাঁচ-সাত হাজার বছরের ইতিহাস অনায়াসে বর্তমানের সাথে সহাবস্থান করে। গিজার পিরামিড, এথেন্সের পার্থেনন, চীনের প্রাচীর বা বাগদাদের ম্যুজিয়ামে সংরক্ষিত মেসোপটেমিয়ার গৌরবের চিহ্ন আজ যেখানে শুধুই টুরিস্টের কৌতুহল আর দর্শনতৃষ্ণা মেটায়, ভারতবর্ষ সেখানে একমাত্র স্থান যেখানে চন্দ্রযান এবং মঙ্গলযানের প্রজেক্টের সাথে সাথে বেদমন্ত্র উচ্চারণ এবং গীতাপাঠ  নিয়মিত নিত্যকর্ম হিসেবে লক্ষ্য করা যায়। ভারত তাই সব শ্রেণীর মৌলবাদীদের কাছেই একটা চ্যালেঞ্জ।

যে কোনো যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন অস্ত্র। আর অস্ত্র অনেক রকমের হয়। প্রতিপক্ষের মনে তার নিজস্ব সংস্কৃতি সম্পর্কে বিতৃষ্ণা জন্ম দেওয়া একটি মারাত্মক অস্ত্র বটে, কিন্তু সবাই সেই ফাঁদে পা দেয় না। তখন তাদের মারবার জন্য প্রয়োজন হয় বন্দুক, গুলি, বোমা। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর তারিখে বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ের মাটি কেঁপে উঠেছিল এক বিস্ফোরণে। তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান চৌধুরীর দু’তলা বাড়ি, যার একতলায় তৃণমূল পার্টি অফিস ছিল, সেখানেই ঘটে বিস্ফোরণ। পরবর্তীকালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা -র অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘আল জিহাদ’ নামক এক জঙ্গিসংস্থা ছিল এর পিছনে। ইন্ডিয়ান মুজাহিদ্দিন বা IM-এর কিছু টেররিস্ট-এর যুক্ত থাকাও প্রমাণ হয়েছিল। কলকাতায় দুর্গাপূজার সময় দশখানা বিস্ফোরণ ঘটানোর মতলব ছিল এই জঙ্গিদের।

48 hours after communal riots, Kaliachak in Malda turns ghost town ...
২০১৬র কালিয়াচক দাঙ্গা

এবার ধরা পড়ল বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানা। এবং অকুস্থল সেই মালদা জেলার কালিয়াচকে। হুমায়ুন শেখের মাটির তলার গোপন কারখানায় পাওয়া গেছে পিস্তল প্রস্তুত করার একটি পাইপ ছাড়াও বেশ কিছু বন্দুক তৈরির হ্যান্ডল, লোহার হ্যামলেট, স্প্রিন্টার, লোহা কাটার যন্ত্র, ড্রিল মেশিন, ইত্যাদি। জেরা করে আপাতত ধৃত হুমায়ূনের কাছে জানা গেছে যে কয়েক মাস ধরেই এই সাংঘাতিক কাণ্ড চলছিল। দেশের মানুষ যখন একদিকে কোরোনাভাইরাসের মোকাবিলায় লকডাউনে গৃহবন্দী, তার গোপন ডেরায় দিব্যি চলছিল এই অস্ত্রের ভাইরাস তৈরির কাজ। এমনকি বিহার থেকেও কারিগর এসে তার কাছে কাজ করে গেছে। তৈরী অস্ত্রের কিছু সে ইতিমধ্যেই সরবরাহ দিয়েছে।

জেরা চলছে। ক’জনের নাম সামনে আসে এটা দেখার। ঘটনার পূর্ণ মীমাংসা হবে, নাকি অন্য অনেককিছুর মত পুলিশের বড়কর্তাদের চোখ কপালে তোলা এই গুরুতর ঘটনাকেও এখানেই চেপে দেওয়া হবে, এটা সময়ই বলবে।

ভয়ঙ্কর ইঙ্গিতগুলি কিন্তু এক এক করে মিলে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের একটি অত্যন্ত গুরুতর অঙ্গরাজ্য। বাংলাদেশের সাথে এত লম্বা আন্তর্জাতিক সীমানা থাকার জন্য সুরক্ষার কারণেও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের বেশিরভাগ নীতিই নির্ধারিত হয়েছে স্রেফ নির্বাচনগত কারণ দ্বারা। সঠিক পরিমাণে পুলিশি ব্যবস্থা, কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলির সমাধান, এসবে আগ্রহ দেখা যায়নি তৃণমুল-শাসিত সরকার বা তার মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। তাই যদি যেত তাহলে খাগড়াগড়ের ঘটনাটিকে “ছোট ঘটনা” বা “বাজিপটকা” বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতনা। পদে পদে রাজনৈতিক বিরোধিতার দিকে ইঙ্গিত না করে এবং শুধুই নির্বাচনী লাভ বা electoral dividend কুড়োনোর চেষ্টা না করে রাজ্যবাসীর সুরক্ষাকে একটু প্রাধান্য দেওয়ার এবং এই ছেলেখেলা বন্ধ করার সময় এসেছে। আর তা না হলে বাঙ্গালীকে, রাজ্যবাসীকে তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকেই ভাবতে হবে তাদের নিজেদের সুরক্ষার কথা। আত্মরক্ষা সর্বোপরি। এবং নিজের এবং নিজের পরিবারের সুরক্ষা যে কোনো মানুষেরই মৌলিক অধিকার বা fundamental -এর মধ্যে অগ্রগণ্য।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

News from India

Nagaland govt calls off Hornbill fest, demands repeal of AFSPA

Two Nagaland ministers said an SIT had been instituted to probe the killings while the state cabinet decided to grant ex-gratia amounts to the victims' kin

Mufti betrays love for Pakistan in Gandhi-Godse analogy

'I remember a match between India and Pakistan during Vajpayee ji's era, where the citizens of Pakistan were cheering for India,' Mehbooba Mufti recalled

Channi, Sidhu try patching up after losing positions in Punjab Congress election committees

After failing to secure their position in the campaign committees of Punjab Congress yesterday, Sidhu makes a valiant attempt to cosy up to Channi

Farmers’ movement ending? Union discusses govt proposal

A five-member committee of the Sanyukt Kisan Morcha shared the draft at a plenary meeting of the SKM on the Singhu border and is deliberating upon it as of now
- Advertisement -

Rest of the world

Abe: Japan, US couldn’t stand by if China attacked Taiwan

A Taiwan emergency is a Japanese emergency, therefore, an emergency for the Japan-US alliance, former Japanese PM Shinzo Abe said, warning Xi Jinping

Shooting at Oxford High School, Detroit, kills 3, injures 8

Hana St Juliana, 14, and Madisyn Baldwin, 17, were killed in the shooting; Tate Myre, 16, died in a patrol car as deputies were taking him to the hospital

Opinion

- Advertisement -

You might also likeRELATED
Recommended to you

[prisna-google-website-translator]
%d bloggers like this: