31 C
New Delhi
Sunday 5 July 2020

আম্ফানের জেরে জল-বিদ্যুৎবিহীন কলকাতায় বয়োবৃদ্ধদের পাড়া

কর্পোরেশনের অনুযায়ী ওঁদের 'কাজ প্রায় শেষ; সিইএসসি বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের কাজ করছে।' বুধবার নাগাদ বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরায় বহাল হবে

আম্ফান ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পানীয় জল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি পাওয়া না গেলে লোকেরা কিছু-কিছু জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শনও করছে। কাহিল অবস্থা দক্ষিণ কলকাতার সেলিম্পুরের। এখানে সত্তরোর্ধ্ব মানুষকে তিন-চারতলা অব্দি পানীয় জল টেনে তুলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এলাকায় আম্ফানের কুদৃষ্টি পরার পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ।

অথচ কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন (কেএমসি) বলছে ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং আশা করা হচ্ছে যে পড়ে যাওয়া গাছগুলি আজ রাতের বা বুধবার সকালে রাস্তা থেকে সরানো হবে। কেএমসির একজন প্রবীণ কর্মী বললেন ‘আমাদের কাজ প্রায় শেষ। এখন সিইএসসি বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।’ তিনি আমাদের আশ্বাস দিলেন যে বুধবার ভোর সকাল নাগাদ এলাকার বাকী অংশে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হবে।

২০ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা সহ ছয় জেলায় আম্ফানের ঝাঁপটায় লক্ষ-লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল। নিচু অঞ্চলগুলি প্লাবিত হয়েছিল এবং হাজার-হাজার গাছ উপড়ে পড়েছিল। এক্ষেত্রে কেএমসি কৃতিত্ব দাবি করতে পারে কিন্তু জনসাধারণ অন্তত রাস্তাগুলি মাত্র একদিনে পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য ভারতের সেনাবাহিনীকেই সাধুবাদ জানাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি সরকার দ্বারা কেন্দ্রকে মদদের অনুরোধের পরে রাজ্যে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য শনিবার কলকাতা এবং তার আশেপাশের জেলাগুলিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার কলকাতার কয়েকটি এলাকায় মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গড়িয়া ও বেহালায় বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। গারিয়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আম্ফানের পর ছয় দিন কেটে গেছে কিন্তু আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করা হয়নি। পরিষেবা কখন পুনরুদ্ধার হবে তা আমরা জানি না।’

জনগণের অভিযোগ, কলকাতা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্পোরেশন (সিইএসসি) বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি এবং কোনও কোম্পানির কর্মকর্তাও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় আসেনি। অপর এক বাসিন্দা বললেন, ‘আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেছি এবং তাদের আমাদের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করেছি। তবে কোথাও থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি।’

বেহালার জনগণ ক্রমবর্ধমান উত্তাপের মধ্যে পানীয় জলের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে।

হুগলি জেলার সেরফুলিতে কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করতে সিইএসসির ব্যর্থতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানিয়েছেন।

দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অনেক জায়গায় মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও পুনরুদ্ধার করা হয়নি।

Follow Sirf News on social media:

For fearless journalism

%d bloggers like this: