Friday 27 November 2020
- Advertisement -

বিজেপি একমাত্র সমস্যা নয়, ঘরোয়া কোঁদলে মমতা জেরবার

বাইরের বিজেপি শুধু নয়, ভিতরের প্রশান্ত কিশোরও সমস্যা; তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করতে মমতাকে বাইরের যুদ্ধের সাথে-সাথে গৃহযুদ্ধও করতে হবে

- Advertisement -
India Elections বিজেপি একমাত্র সমস্যা নয়, ঘরোয়া কোঁদলে মমতা জেরবার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ছয় মাসেরও কম সময় বাকি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভায় ২৯৪ টি আসনের মধ্যে ২০০ জয়ের উচ্চাভিলাষী বিজেপি-র চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। কিন্তু এই মাসের প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দ্বারা এহেন লক্ষ নিরধারিত করার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “বাংলা কে বিজেপির থেকে বাঁচাও” নির্বাচনীয় হাঁক পেড়ে তাঁর বাংলার দুর্গ রক্ষার জন্য ৬০০ জন সমাবেশের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বিজেপি তাঁর একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরকে তাঁর দলের বহু অনুগত সদস্য খুব একটা পছন্দ করছেন না। কেউ-কেউ ইতিমধ্যে বিদ্রোহ করেছেন।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির সাথে তাঁর বিজয়ী সহযোগিতা এবং ২০১৫ সালের বিহার নির্বাচনের মারাত্মক ভাবে দিক পালটে দেওয়ার খ্যাতি অর্জনকারী প্রশান্ত কিশোর মমতাতে 2019 লোকসভা নির্বাচনের ঝাঁকুনির কারণ জানিয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন।

মমতার ভাইপো এবং ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণত ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের টিএমসিকে সহায়তা করার জন্য প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে আসার জন্য কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এদিকে তৃণমূলের সাংসদদের সংখ্যা লোকসভায় ৪২ সংসদ সদস্যকে প্রেরণ করা পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ থেকে ২২ এ নেমেছে। টিএমসি জেলা ও ব্লক স্তরের উপলব্ধি ব্যবস্থাপনার জন্য এটিকে দায়ী করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশান্ত কিশোরকে তলব করা হয়েছিল।

বাইরের বিজেপি শুধু নয়, ভিতরের প্রশান্ত কিশোরও সমস্যা

তবে তৃণমূলের কাছে এখন বিষয়টি হ’ল এটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্য শাসনকারী বামফ্রন্টের মতো ক্যাডার-ভিত্তিক দল নয়। বা পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ জানানো বিজেপি শাসক দলের একমাত্র মাথাব্যথা নয়।

বিজেপি একমাত্র সমস্যা নয়, ঘরোয়া কোঁদলে মমতা জেরবার

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC) বেশিরভাগই তরুণদের সহযোগিতায় কাজ করতে অভ্যস্ত। সেই আই-প্যাক তৃণমূলে সাংগঠনিক পরিবর্তন ইত্যাদি করার পরামর্শ দিচ্ছে এবং ক্ষমতা অনুযায়ী কোথাও-কোথাও নিজেরাও কিছু খুঁটিনাটি নেড়ে দেখছে। এইরূপ হতক্ষেপে প্রবীণ জেলা তৃণমূল নেতাদের ঘোরতর আপত্তি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপি নেতারা তৃণমূলকে টার্গেট করার জন্য যে ‘কাট মানী’র কথা বলছিলেন, তার সমাধান খুঁজতে প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলীয় সদস্যদের সরকারী প্রকল্প থেকে কমিশান খেতে বারণ করেন। অর্থাৎ সেই সময় অব্দি রাজ্য সরকার এবং তাঁর পরামর্শদাতা একে অপর কে বিশ্বাস করতেন এবং একে অপরের কথা শুনতেন। কিন্তু এক্ষেত্রেও দলের প্রবীণ নেতারা প্রশ্ন তলেন যে পার্টির সকলকে দুর্নীতিগ্রস্থ ধরে নিয়ে এরকম নির্দেশ দেওয়া হবে কেন?

প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে সেই কানাঘুষো আজ বিদ্রোহের পর্যায় গিয়ে পৌঁছেছে; প্রশান্ত কিশোরের প্রতি নারাজ, এইরূপ নেতাদের সঙ্খ্যা প্রচুর।

প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে সরব এই নেতারা

কোচবিহার জেলার তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী ১৯৯৯ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ছিলেন, যখন দলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। জল্পনা চলছে যে তিনি বঙ্গ নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।

তৃণমূলের সাথে প্রশান্ত কিশোরের সংযোগ নিয়ে তাঁর অভিযোগ — “এটি এখন আমার দিদির পার্টি নয়; তিনি নিষ্ক্রিয় রয়েছেন এবং এ কারণেই তার লোকদের এখানে আর প্রয়োজন নেই। পার্টিতে থাকতে আপনার অবশ্যই ‘হ্যাঁ-হ্যাঁ’ করতে হবে। তবে মানুষের কথা বাদ দিন, কোনও পার্টিকে এটি কর্পোরেট হাউসের ভরসায় ছেঁড়ে দেওয়া যায় না।”

আরও কয়েকজন অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের জেলা ও ব্লক কমিটিগুলি পুনর্গঠিত হয়েছিল এবং তাদের সাথে পরামর্শও করা হয়নি। তাঁরা বলছেন তদুপরি ‘দুগ্ধপোষ্য বাচ্চারা’ নাকি ইদানীং প্রবীণদের নির্বাচনে জেতার জ্ঞান দিচ্ছেন!

হাজী নিয়ামত শেখ হলেন এমনই একজন নেতা যিনি প্রশান্ত কিশোরের দলের কর্মীরা তাঁর নির্বাচনী এলাকায় যেভাবে পৌঁছেছেন, তাতে বিচলিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক এক জনসভায় শেখা বলেছিলেন, “প্রশান্ত কিশোর সকল সমস্যার কারণ। সুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদে দলকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন। আর এখন যে নেতারা তার সাথে কথা বলছেন তাঁরা পদক্ষেপ নেচ্ছেন।”

তৃণমূলের উত্তর ও দক্ষিণের যুগ্মসমস্যা

বাংলার মন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারী, প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এবং অন্যান্য বড় দলীয় নেতারা প্রশান্ত কিশোরের দলের আন্তরিক বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপে সন্তুষ্ট নন।

এই প্রবণতা উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের জন্য আরও উদ্বেগজনক, যেখানে বিজেপি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মোট আটটি লোকসভা আসন জিতেছিল। হাজী নিয়ামত শেখের অসন্তুষ্টি দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। শেখের দুর্গ মুর্শিদাবাদ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের নির্বাচনী সাফল্যের জন্য মুসলমান ভোটাররা মূল ভূমিকা পালন করেছে। বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাব-বিস্তারের সাথে পর্যবেক্ষকরা পরবর্তী বাংলা নির্বাচনে ভোটারদের বৃহত্তর মেরুকরণ দেখছেন। তৃণমূলের অভিষেক মুখোপাধ্যায় এবং বিশেষত প্রশান্ত কিশোর এখন ক্ষতি-নিয়ন্ত্রণের কাজ করছেন উত্তর এবং দক্ষিণ বাংলায় অসন্তুষ্ট নেতাদের সাথে বৈঠকের পর বৈঠক করে।

বিজেপির পরিকল্পনা

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কয়েক মাস আগে বিভক্ত পরিবারটি বিজেপির পক্ষে এক শুভ উদ্বোধন। তৃণমূলের ঘরে ভাঙ্গন দেখে উদ্বুদ্ধ বিজেপি মূল সাংগঠনিক পরিবর্তন করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বিমেয়াদী অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির মুখোমুখি। ইতিমধ্য কোরোনাভাইরাস মহামারীটি সমস্ত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রোশ কেবলমাত্র বাড়িয়ে তুলেছে। কোরোনাভাইরাসেরও যে নির্বাচনে একটি ভূমিকা আছে তার সাম্প্রতিক উদাহরণ বিহারে রাজ্য নির্বাচন।

তদ্ব্যতীত সামাজিক যোগাযোগের বিবরণ স্থাপনে প্রশান্ত কিশোরের দক্ষতা মোকাবিলার জন্য বিজেপি তার আইটি সেল প্রধান অমিত মালবীয়কে বঙ্গীয় নির্বাচনের সহ-দায়িত্বে নিযুক্ত করেছে। মালবীয় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির বিবরণী স্থাপনে চিরকালই আক্রমণাত্মক।

এছাড়া বিজেপির নিজস্ব রণকৌশল রয়েছে। পার্টি পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পরিচালনার লক্ষ্যে গ্রামে-গ্রামে কাজ করা কর্মীদের এমনকি অসন্তুষ্ট লোকদের কাছেও পৌঁছচ্ছে।

শীর্ষে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নির্বাচন প্রস্তুতির তদারকির জন্য মাসে অন্তত একবার বাংলা সফর করবেন। আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাইরের যুদ্ধের সাথে-সাথে গৃহযুদ্ধেও শামিল হতে হবে।

Translation into English

The West Bengal Assembly election is less than six months away. Bengal Chief Minister Mamata Banerjee faces a humongous challenge from the BJP, which has set an ambitious target of winning 200 of 294 seats in the state assembly. Union Home Minister Amit Shah said so early this month. Mamata Banerjee has planned 600 rallies to defend her Bengal fortress with the election cry of “Save Bengal from BJP”. But the BJP may not be her only challenge. Her election strategist Prashant Kishor is not being liked much by many of her loyalist party members. Some of them have already rebelled.

Prashant Kishor, who earned the reputation of turning around an election with his victorious association with the BJP in 2014 Lok Sabha polls and severe drubbing of the BJP in 2015 Bihar election, entered the TMC scheme of things after the 2019 Lok Sabha election jolt to Mamata Banerjee’s party.

Her nephew and Diamond Harbour MP Abhishek Banerjee is usually credited for bringing in Prashant Kishor to help the TMC in 2021 West Bengal Assembly election.

TMC’s tally of MPs had dropped from 34 to 22 in Bengal, which sends 42 parliamentarians to the Lok Sabha. The TMC has attributed this to perception management at district and block levels. Prashant Kishor was roped in to fix the problem.

PK: Solution or problem?

But the issue with the TMC now is that it is not a cadre-based party such as the Left Front, which ruled the state for over three decades, or the BJP, which is challenging Mamata Banerjee’s popularity in West Bengal.

Prashant Kishor’s I-PAC mostly works with a very young team. The team is suggesting and making organisational changes at grassroots levels, something that many a time leaves veteran district TMC leaders angry.

The “cut money” jibe that BJP leaders including Prime Minister Narendra Modi have used to target the TMC was the first sign of Prashant Kishor being heard by Mamata Banerjee, who warned her party members against asking “cut money” from government schemes. This upset senior party leaders, who felt the blanket-blame move was unjust.

Now, the TMC has a beeline of MLAs speaking out against Prashant Kishor.

Voices against Prashant Kishor

Mihir Goswami, a TMC MLA from Cooch Behar district, has been with Mamata Banerjee since 1998, when the party was founded. There is speculation that he may join the BJP ahead of the Bengal election.

His complaint over Prashant Kishor’s association with the TMC is this: “This is no longer the party of my didi. She is inactive and that is why her people are no longer required here. To stay in the party you have to be a ‘yes man’ or leave A party cannot be run by outsourcing it to a corporate house.”

Some others have complained that their district and block committees were reorganised and they were not even consulted. Moreover, the “fresh graduates” are allegedly telling TMC veterans what to do to win election.

Hazi Niamot Sheikh is one such leader, who is said to be rattled by the manner in which workers from Prashant Kishor’s team have approached his constituency. At a recent public rally, Sheikha said, “Prashant Kishor is the cause of all trouble. Suvendu Adhikari revived the party in Murshidabad. And now leaders who talk to him are facing action.”

Dual challenge for TMC

Bengal minister Suvendu Adhikari and influential TMC leader Jagadish Chandra Barma Basunia are other big party leaders who are not happy with Prashant Kishor’s alleged interference in the party’s affairs.

This trend is more worrisome for the TMC in north Bengal, where the BJP had won seven out of eight Lok Sabha seats in the 2019 national polls. Hazi Niamot Sheikh’s dissidence may spring trouble for the TMC in south Bengal. Murshidabad, Sheikh’s stronghold, is a Muslim majority district.

Muslim voters have been a key factor for the electoral success of Mamata Banerjee’s TMC. With the BJP’s rising stake in Bengal politics, observers see the greater polarisation of voters in the next Bengal election. The TMC — Abhishek Mukherjee and Prashant Kishor in particular — is now in damage-control mode holding a flurry of meetings with disgruntled leaders in both north and south Bengal.

BJP’s plan

A divided house of the TMC months ahead of the Bengal election is, however, a good opening for the BJP, which has made key organisational changes to go full tilt in the state. Mamata Banerjee is facing a two-term anti-incumbency. The Covid-19 pandemic has only magnified anti-incumbency against all state governments. Bihar recently showed that in its state election.

Further, to counter, Prashant Kishor’s expertise in setting up a social media narrative, the BJP has made its IT cell chief Amit Malviya co-in-charge of Bengal election. Malviya has been aggressive in setting BJP’s narrative on social media.

Mamata Banerjee is embarking on “Save Bengal from BJP” mission from Sunday (November 22) with a plan to hold at least two public rallies in each of the 294 constituencies. The BJP has its own strategy in place. It is reaching out to ground-level workers, even those disgruntled, with the objective of manning every single polling booth for the Bengal election.

At the top, BJP president JP Nadda and Union Home Minister Amit Shah are to visit Bengal at least once a month to supervise poll preparations. Mamata Banerjee has a twin-battle to win to make it her third term in April-May next year.

- Advertisement -
Narad
Naradhttps://www.sirfnews.com
A profile to publish the works of established writers, authors, columnists or people in positions of authority who would like to stay anonymous while expressing their views on Sirf News

Views

Hindu Censored By Social Media Too

Since late 2017, as the social media companies got surefooted of their stranglehold over conversations in India, views of Hinduism and Sanatana Dharma have...
- Advertisement -

Interfaith Marriage Fraught With Risks Even Sans Love Jihad

Inter-faith marriages are being utilised as tools to facilitate irreversible changes to India's religious demography by the vested interests who dream of 'Abrahamising' India and finally complete their unfinished agenda

World Order Is Changing: 2+2 Takeaway

The world is reordering itself to resist Chinese moves with the US, France, Britain and allied countries moving towards military partnerships

Related news

- Advertisement -
%d bloggers like this: