For better legibility, make SolaimanLipi the default font of your browser

পশ্চিমবঙ্গের বুকে দিকে-দিকে আগুন জ্বলছে। বারবার কখনো তা মালদার কালিয়াচক, কখনো তা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা বা চন্দননগর বা নৈহাটি হাজীনগর, মল্লারপুর বা হাওড়ার ধুলাগড়। আবার কাটোয়ায় মন্দিরে গোমাংস নিক্ষেপ এবং উলুবেড়িয়ার তেহট্ট বাসুদেবপুর হাইস্কুলে নবীদিবস পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, এখানে সমস্ত ধর্মাবলম্বী মানুষেরা বসবাস করেন, তাহলে কেন দেখা যাচ্ছে একটি বিশেষ ধর্মের মানুষেরাই বিভিন্ন সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে বেশি লিপ্ত? কেন কালিয়াচকে সেই বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের হাতে পুলিশকে মার খেতে হয়? কেন পুলিশের থানা, জিপ ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়? হাজীনগরে হিন্দুদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করা হয়, বোমা মারা হয়। সেখানেও পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে! বীরভূমের মল্লারপুরে মহরমের চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দুদের মরতে হয়। সেখানে নবীদিবস পালনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

Hinduসম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হাওড়ার ধুলাগড়। সেখানেও একই ঘটনা। বাংলা সংবাদপত্রে লেখা হয় — গোষ্ঠীদ্বন্দ! অথচ প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন “আল্লাহু আকবর” ধ্বনি বা “পাকিস্তান জিন্দাবাদ” ধ্বনিও নাকি শোনা গেছে, বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বাড়ী ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমনকী মজার কথা শাসকদল তৃণমূলেরই বেশ কয়েকজন সদস্য স্থানীয় নেতাদের বাড়ি ঘর পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। এছাড়াও দোকানপাট ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনাও সামনে এসেছে।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় সেখানে কোনও সমস্যাই হয়নি। তাহলে কেন বিজেপির সদস্যদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি? একটি বিশিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষকে শিখণ্ডী খাড়া করে প্রশাসনকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে হয়? জানি এসব প্রশ্নের কোন উত্তর হয় না।

এই কদিন আগেই হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ার তেহট্ট বাসুদেবপুর হাইস্কুলে নবীদিবস পালনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় সেখানে পাকিস্তানের পতাকা পর্যন্ত উড়েছে! জনৈক ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা বেশ উস্কানিমূলক ভাষন দিয়ে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার ভাষণে তিনি একথাটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে কোন প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রী তিনি মানেন না।

পশ্চিমবঙ্গে চারিদিকের এই পরিস্থিতি থেকে কোথাও না কোথাও একটা কথা বেশ ভাবাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের সহিষ্ণু, ধর্মনিরপেক্ষ আঁতেল হিন্দুরা কি তবে সংখ্যালঘু হতে চলেছে? ১৯৪৬-৪৭ সালে কলকাতা সহ বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা আমরা পড়েছি, জেনেছি সেই দাঙ্গার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে না তো? এ প্রশ্নের উত্তর কোথায়?