‘দাঙ্গা’ বহিরাগত, প্রশ্রয়প্রাপ্ত মুসলমানের চক্রান্ত

0
108

[Click/tap here for the English translation of this article]

বসিরহাট পশ্চিমবাংলার একটি ছোট্ট জেলা শহর। কলকাতা থেকে বসিরহাটের দূরত্ব ৬০ কিলোমিটারের বেশী হবেনা। এতদিন এই শহরটির নাম ভারতবর্ষের খুব কম মানুষই জানতেন। যদিও আমাদের দেশের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর কাছে বসিরহাটের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বসিরহাট থেকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার দূরত্ব হল ২৫ কিলোমিটার; সময় লাগে ১ ঘণ্টা মতো। আর এই ভৌগোলিক অবস্থানই বসিরহাটে ঘটে যাওয়া দাঙ্গার মূল কারণ। আপনারা সবাই জানেন দাঙ্গার মূল কারণ একটি ১৭ বছরের ছেলের করা এক ফেসবুক পোস্ট থেকে। কিন্তু লেখার শুরুতে আমি আপনাদের কয়েকটি সূত্র দিই; পরে সেই সূত্রগুলি একে-একে জুড়ব। আর সূত্রগুলি জোড়ার মধ্যে দিয়েই দাঙ্গার কারণ উঠে আসবে। নিচে কতকগুলি ঘটনা ক্রম অনুযায়ী দিচ্ছি —

  • নন্দীগ্রাম আন্দোলন
  • ২০১০ সালে দেগঙ্গায় সাম্প্রদায়িক সঙ্ঘর্ষ
  • পশ্চিমবাংলায় লাল দূর্গের পতন
  • মমতা ব্যানার্জ্জীর উত্থান
  • মমতা ব্যানার্জ্জীর ইমাম মুয়াজ্জিন ভাতা চালু করার সিদ্ধান্ত
  • ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির লোকসভা নির্বাচনে বিপুল জয়লাভ
  • ২০১৬-র জানুয়ারীতে কালিয়াচক দাঙ্গা
  • ২০১৬ তে অসমে বিজেপির বিপুল জয়লাভ ও এনপিআর এবং এনসিআর প্রকল্পের সূচনা
  • ২০১৬ তে বিধানসভা নির্বাচনে মমতার বিপুল জয়লাভ ও কিছু কট্টরবাদী মুসলিম নেতার মন্ত্রীসভায় যোগদান
  • ২০১৬-র ডিসেম্বরে ধূলাগড় দাঙ্গা
  • পশ্চিমবঙ্গে রামনবমী পালন
  • ২০১৭-তে বসিরহাট দাঙ্গা

আপাতদৃষ্টিতে উপরের ঘটনাগুলির মধ্যে সংযোগ দেখা না গেলেও ঘটনাগুলি একটি অন্যটির সাথে যুক্ত। আর সেই ঘটনা পরম্পরার মধ্যে দিয়ে উঠে আসে এক প্লট যা যেকোন থ্রিলারকেও হার মানায়।

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রায় প্রহরীবিহীন — বেশিরভাগ রেল ক্রসিঙের মত। এই সব স্থানগুলিতে না আছে কোন কাঁটাতারের বেড়া, না আছে সঠিক প্রহরা ব্যবস্থা। বস্তুত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এই কিছুদিন আগেও বেশ কিছু ছিটমহল ছিল। ছিটমহল হল দুই দেশের মধ্যবর্তী বেশ কিছু জায়গা যেগুলি দেশভাগের সময় ভারত ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে পরেছিল, যেখানকার বাসিন্দারা কোন দেশেরই নাগরিক ছিলেননা। মোদীজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিটমহল চুক্তি সম্পন্ন হয় ও দুইদেশের মধ্যে জনবিনিময় হয়। এই জনবিনিময়ের ফলে ছিটমহলের বাসিন্দারা তাদের পছন্দ মতো দেশ বেছে নেন নাগরিকত্ব গ্রহণ করার জন্য। এই সমস্ত অধিবাসীদের নথিভুক্তিকরণ করা হয়। কিন্তু এই নথীভুক্ত অধিবাসী ছাড়াও এক বিশাল সংখ্যক মানুষ ৮০-র দশক থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে পশ্চিমবাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসে গেছেন এবং তারপর সারা ভারতে ছড়িয়ে গেছেন। তৎকালীন সরকারের শরিক দলগুলি — মূলত সিপিএম — ভোট ব্যাংকের খাতিরে নির্বিচারে এদের রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে পাসপোর্ট ইত্যাদি সবকিছুর বন্দোবস্ত করে দিয়েছে। এর ফলে সবথেকে বিপদ হয়েছে ঠিক কতজন অবৈধ অধিবাসী বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে বসে গেছে তার কোন হিসাব নেই। আর এই অবৈধ বাংলাদেশিরাই তাদের সাথে এই রাজ্যে ওয়াহাবিজম ও সালাফিজম কে এনেছেন।

পশ্চিমবাংলার আদি মুসলিমরা সাধারণ ভাবে পীরেদের অনুগামী হতেন। ৮০-র দশক অব্দিও এদের জীবনে মসজিদ বা মাদ্রাসার ভূমিকা তেমন ছিলনা,পীরের ভূমিকা এদের জীবনে অনেক বেশী ছিল। যে কারণে দেখবেন হুগলী বা বর্ধমান জেলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাধিক্য থাকলেও সেখানে কিন্তু অল্প কিছুকাল আগে অব্দি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিশেষ ছিলনা। কিন্তু৮০-র দশক থেকেই বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হাত ধরে এই ধারার পরিবর্তন হতে থাকে।

সীমান্তবর্তি অঞ্চলগুলিতে মাদ্রাসার সংখ্যা ও প্রভাব বাড়তে থাকে। সিপিএম বা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ভোট ব্যাংকের খাতিরে চোখ বন্ধ করে রাখে। এর সাথে-সাথেই বাংলাদেশে পেট্রো-ডলারের সহায়তায় মুসলিম কট্টরপন্থীদের প্রভাব বাড়তে থাকে। এই প্রভাব বিস্তৃত হতে-হতে পশ্চিমবাংলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতেও বিস্তৃত হয়। এমনকি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্যও মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে সীমান্তবর্তী মাদ্রাসাগুলি আসলে ভারত ও বাংলাদেশ-বিরোধী বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর আখড়া। এরপরে স্বভাবসিদ্ধভাবেই সিপিএম পার্টির চাপে তিনি সেই কথা গিলে নিতে বাধ্য হন। কিন্তু কথাগুলি গিলে নিলে কি সত্য অসত্যে পরিণত হয়? হয়না।

ভারত ও বাংলাদেশ-বিরোধী বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের প্রভাব বাড়াতেই থাকে। এই প্রভাব বিস্তারের একটি অন্যতম উপায় হিসাবে তারা স্থানীয় মুসলিমদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিতে থাকে। ভারতীয় যে মুসলিমরা সাধারণভাবে বিভিন্ন পীরের অনুগামী হত তারা ক্রমশ ওয়াহাবিদের অনুগামী হয়ে পরে। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়াটি চালানো হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় এই প্রভাব বাড়ানো হয়েছে তা মালদার উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে আপনাদের কাছে।

আজকে মালদা জাল নোটের কারবার, কালিয়াচক ও পোস্ত চাষের দৌলতে ভারতে কারুর কাছেই আর অপরিচিত নাম নয়। যারা পশ্চিমবাংলার রাজনীতি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল তারা সবাই জানেন মালদা এখনও এই রাজ্যে কংগ্রেসের বেঁচে থাকা দুইটি ঘাঁটির মধ্যে একটি। অন্যটি হল মুর্শিদাবাদ। মালদায় কংগ্রেসের দীর্ঘ সময় ধরে জিতে আসার দুটি মূল কারণ। এক গনি খান চৌধুরির ভাবমূর্তি আর অন্যটি হোল স্থানীয় ফকিরদের উপরে গনি খানের পরিবারের প্রভাব।

আবু বরকত আতাউর গনি খান চৌধুরী

মালদায় দুইজন প্রধান ফকির। এদের মধ্যে এক ফকিরের সেবাইত গনি খানের পরিবার, আরেক ফকিরের সেবাইত গনি খানের বোনের পরিবার। এই দুই ফকিরের প্রভাবেই দীর্ঘ সময় ধরে মালদার মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে গনি খানের পরিবারকে ভোট দিয়ে আসছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির বদল হতে থাকে অবৈধ বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের আধিক্য ৮০-র দশকের মাঝামাঝি থেকে বেড়ে যাওয়ার ফলে। এই সময় থেকে কিছু মুসলিম সংগঠন মালদা স্থানীয় মুসলিমদের দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাদের ১০-১২ বছর বয়সী বাচ্চাদের কেরলের বিভিন্ন মাদ্রাসায় পঠন-পাঠনের অজুহাতে নিয়ে যেতে থাকে ও তাদের ওয়াহাবিজিমে দীক্ষিত করে ১০-১৫ বছর পরে আবার মালদায় ফেরত পাঠাতে থাকে। মোটামুটি ভাবে ৯০-র দশকের শেষ দিক থেকে এরা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসতে থাকে এবং নিজেদের প্রভাব বাড়াতে থাকে।

এই প্রভাব বাড়ানোর উপায় হিসাবে এরা দুটি পন্থার সাহায্য নেয়। একদিকে সামাজিক ভাবে এরা নিজ-নিজ এলাকায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে থাকে, অপরদিকে সেই সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়াতে থাকে। যেমন ধরুন কোন এলাকায় হয়ত কিছু ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে দিল, কিংবা এলাকায় একটি মাদ্রাসা স্থাপন করে সেখানে স্থানীয় মুসলিম পরিবারের বাচ্চাদের পড়াশুনার ব্যবস্থা করে দিল।

যদিও এই অননুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে পড়াশুনা বলতে শিশুদের বিভিন্ন ধর্মশিক্ষা দেওয়া আর ওয়াহাবিজিমে দীক্ষিত করে বাচ্চাদের মগজ-ধোলাই ছাড়া অন্য বিশেষ কিছু হয়না। খাগড়াগড় তদন্তে বিভিন্ন সময়ে উঠে আসা অননুমোদিত মাদ্রাসাগুলির ভূমিকা থেকেই এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এইভাবেই কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলি বাংলাদেশের সাথে সাথে পশ্চিম বাংলায় নিজেদের প্রভাব বাড়াতে থাকে।

বর্তমানে তো অবস্থা এমনি পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে আগামী লোকসভা ভোটে মালদায় কংগ্রেস জিতবে কিনা তা নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ উগ্রবাদীদের চাপের কাছে এই সব পীর-ফকিররা ক্রমশঃ অসহায় হয়ে পরছেন। এমনকি ইসলামে সঙ্গীত গান-বাজনা হারাম এই অজুহাতে এইসব কট্টরবাদীরা মালদা জেলার ঐতিহ্যশালী কাওয়ালী গানের আসর,পীর-ফকিরের গানের আসরও বন্ধ করিয়ে দিয়েছে।

এই পর্যায়ে তৎকালীন শাসক অর্থাৎ সিপিএম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা ছাড়া অন্য কিছুই করেনি। অবস্থা এখন এমন অবনতি ঘটেছে যে এই কট্টরবাদী মুসলিম সংগঠনগুলিই স্থানীয় রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে। একটা দীর্ঘসময় যাবৎ নিজেদের সংগঠনের জোরে এইসব মৌলবাদী মুসলিম সংগঠনগুলিকে নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য ব্যবহার করেছে। কিন্তু ক্রমাগত বাংলাদেশ থেকে আসতে থাকা অবৈধ বাংলাদেশিদের জোরে একসময় এইসব সংগঠনগুলিই সিপিএমকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে এবং এরা মালদা এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্য অংশেও শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে তসলিমা নাসরিনকে বিতারণের  দাবীতে জনাব সিদ্দীকুল্লার দাবীতে সিপিএম আমলের শেষদিকে কলকাতার দাঙ্গা — যার জেরে বুদ্ধদেববাবুকে আর্মি নামাতে হয় কলকাতার রাস্তায়।

সেন্সাসের ডেটাগুলি দেখলেই এই ধারণাটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। ২০০১ সালে যেখানে মালদায় মুসলিম জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৪৩% ছিল, ২০১১ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী তা প্রায় ৫৪%। আর যদি শুধু কালিয়াচকের হিসাব ধরা হয় তাহলে পুরো কালিয়াচক ব্লকে সীমান্তবর্তী ৪ টি গ্রাম বাদ দিলে বাকী গ্রামগুলি সবই পুরোপুরি মুসলিম অধ্যুষিত। একই ভাবে মুসলিম জনসংখ্যার হার বাকী জেলাগুলিতেও বেড়েছে। আর তাই বোধহয় ইমাম বরকতি তৃণমূল কংগ্রেসের সভা থেকে খোলাখুলি বলতে পারেন, “মনে রাখবেন আমরা ৩৫%”।

নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের ঘটনার জেরে সিপিএমের দুর্বল হয়ে পড়ার সময়েই এই সংগঠনগুলি তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। এই সময়েই এরা তৃণমূলের ভিতরেও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে থাকে এবং এদের মদতে দুই ২৪ পরগনায় ২০০৯-এর লোকসভা ভোটে বেশীরভাগ আসনে তৃণমূল জয়লাভ করে। এরই মধ্য একজন ছিলেন হাজী নুরুল ইসলাম। ২০০৯ সালে ইনি তৃণমূলের এমপি হন। শোনা যায় ওঁর প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে একটি ছিল ওঁ কথা দিয়েছিলেন যে এলাকার সব মসজিদে মাইক দান করবেন। ২০১০ সালে দেগঙ্গা দাঙ্গার সূত্রপাত মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণার মাধ্যমেই হয়। বস্তুত এই দাঙ্গার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে সৈন্য নামিয়েও প্রায় ৫ দিন লেগেছিল দাঙ্গা সামলাতে। এমনকি এই দাঙ্গার জেরে এরপরে ২০১৪ সালে মমতা ব্যানার্জ্জী প্রার্থী বদল করতেও বাধ্য হন। সেবারেও বসিরহাট দাঙ্গার মতোই একই অভিযোগ ওঠে যে দাঙ্গাকারীদের যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা সবাই বাংলাদেশ থেকে ঢুকেছিল।

যদিও বসিরহাট বা দেগঙ্গার ঘটনাকে দাঙ্গা বলতে আমার আপত্তি আছে — কারণ দাঙ্গা হয় যখন দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায় — কিন্তু এইসব ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে মুসলিমরা হিন্দুদের উপরে একতরফা আক্রমণ চালিয়েছে, কাজেই একে দাঙ্গা না বলে একতরফা আক্রমণ বলাই ভাল।

সিপিএম দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা দিয়ে যে ভোট ব্যাংক বানিয়েছিল তা মোটামুটি ভাবে ২০০৯ থেকেই তৃণমূলের দিকে ঝুকে পরেছিল; ২০১১ সালে তৃণমূলের বিপুল জয়লাভের পর তা পুরোপুরিই তৃণমূলের দিকে ঝুকে পরে। মালদা, মুর্শিদাবাদের পীর-প্রভাবিত অঞ্চলগুলি ছাড়া ওয়াহাবিজিম ও সালাফিজিম দ্বারা প্রভাবিত মুসলিমরা তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে পরিণত হয়। এমনকি কোন-কোন জায়গায় এরাই তৃণমূল দলটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে। এইসব কট্টরবাদীদের খুশি করতে মমতা ব্যানার্জ্জীর সরকার কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে ইমাম মুয়াজ্জীন ভাতাও চালু করে।

এই পর্যন্ত জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি নির্বিঘ্নেই তাদের কাজ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সহায়তায় চালিয়ে যাচ্ছিল। জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, হুজি, ইত্যাদি নানা জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের প্রভাব ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছিল। মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ন অঞ্চল জুড়ে এরা একপ্রকার শরিয়া শাসন ব্যবস্থাও চালু করেছিল। এমনকি মাঝেই মাঝেই স্থায়ী শরিয়া শাসন ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবীতে বেশ কয়েকবার বেশ কয়েক লক্ষ্য মানুষের মিছিলও বেড়িয়েছে। বিশেষ করে মালদা আর মুর্শিদাবাদে তো হিন্দুদের সংখ্যালঘু হওয়ার ফলে এরা এক বিস্তীর্ন অঞ্চলে পুরোপুরি শরীয়তী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। এইসব অঞ্চলে হিন্দুদের পূজা করা, এমনকি বাড়িতে আলপনা দেওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

দুই ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদ, এমনকি বীরভূমেও বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতারা, কট্টরপন্থী ইমামরা গোপনে প্রচার কার্য করতেন। আর এই সমস্ত কার্যকলাপ সম্বন্ধে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা অবগত ছিলেন না একথা কখনই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ব্যবস্থা প্রায় নির্বিঘ্নেই চলছিল। যার সুযোগ নিয়ে খাগড়াগড়ের মতো নিশ্চিত আস্তানা এই জঙ্গিরা বানিয়েছিল। এমনকি খাগড়াগড়ে পরবর্তী সময়ে এক মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি খৈনির প্যাকেট উদ্ধার হয় — যা শুধুমাত্র অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নয়, অবৈধ পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীর দিকেও ইঙ্গিত করে।

কিন্তু এই নিশ্চিত ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দেয় ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়লাভের পরে। এরপরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংগঠনগুলি এই রাজ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি মালদায় এন০আই০এ০ নিজস্ব অফিসও খোলে। এই সময়েই ঘটে খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণ। খেয়াল করে দেখবেন মমতা ব্যানার্জ্জীর সরকার এই ঘটনাকে চাপা দেওয়ার প্রভূত চেষ্টা করেছিল।এর পেছনে শুধুই ভোট ব্যাংকের রাজনীতি নাকি নেতাদের অন্য কোন স্বার্থ ছিল তা এইসব নেতারা বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংগঠনগুলিই ভালো বলতে পারবে। কিন্তু জঙ্গিরা এমন একটি নিশ্চিত ডেরা বানিয়ে সেখানে রীতিমতো বোমার কারখানা খুলে বসেছিল আর পুলিশ প্রশাসনের কাছে কোন খবরই ছিলনা, তা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

এই ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংগঠনগুলি পশ্চিমবঙ্গে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। মালদার বিস্তীর্ন অঞ্চলে চলে আসা পোস্ত চাষের কারবারে ছেদ পরে। গ্রেপ্তার হন অনেক জাল নোটের কারবারী। নাম জড়িয়ে যায় বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতার। এমন সময়েই ঘটে কালিয়াচকের ঘটনা। যদিও ঘটনার সূত্রপাত উত্তর প্রদেশে কমলেশ তেওয়ারীর ভাষণ থেকে। কিন্তু এটা কখনই বিশ্বাসযোগ্য নয় যে সেই ভাষণের জেরে পশ্চিমবঙ্গের কালিয়াচকে প্রায় দুই লাখ মানুষ জমায়েত করে সংগঠিত ভাবে থানা আক্রমণ করবে। কালিয়াচক বাজারে অবস্থিত হিন্দুদের দোকান ধ্বংস করে আগুনে পুড়িয়ে দেবে। কোন তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় কেউ থানা পোড়াতে যায় না।

আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা কালিয়াচকের দাঙ্গায় নজরে আসে — তা হল আক্রমণকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল থানার রেকর্ড রুম। থানার রেকর্ড রুমটি সম্পূর্ণরূপে ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়। অথচ তার পাশের থানার অস্ত্রাগারে কিন্তু কোন আক্রমণ হয়নি। এর থেকেই বোঝা যায় পুরো ব্যাপারটি পূর্বপরিকল্পিত। আসল উদ্দেশ্য ছিল জালনোটের কারবারী,পোস্ত চাষের কারবারী ও বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতাদের আড়াল করা। যদিও পশ্চিমবাংলার প্রশাসন ও মিডিয়া এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে উঠে-পরে লাগে, জাতীয় মিডিয়ার দৌলতে এই ঘটনা সম্পূর্ণরূপে সামনে আসে। এরপর থেকেই এন০আই০এ০ এবং অন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি নিজেদের উপস্থিতি মালদায় আরও জোরদার করে। বি০এস০এফ০ বর্ডার অঞ্চলে আরও কড়াকড়ি শুরু করে। এরফলে সীমান্তে চোরাচালানের কাজ, পোস্ত চাষ, জাল নোটের কারবার প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। জাল নোটের কারবার তো নোটবন্দীর পরে পুরোপুরিই বন্ধ। যারা বাংলা কাগজপত্র নিয়মিত পড়েন তারা খেয়াল করে থাকবেন নোটবন্দীর পর থেকেই মালদার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাংক ডাকাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল কারণই হল নোটবন্দীর ফলে জাল নোটের কারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া। এর ফলে জাল নোট পাচারের যে নেটওয়ার্ক ছিল তাকে বজায় রাখতেই এই ব্যাংক ডাকাতিগুলির প্রয়োজন পরছে। বসিরহাট দাঙ্গার পেছনেও যে অন্যতম মূল কারণটি উঠে আসছে তা হল সীমান্তে কড়াকড়ির ফলে গরু এবং সোনা পাচার চক্রবন্ধ হয়ে যাওয়া। গরু পাচার চক্রে তো কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িয়ে আছে।

এই পরিস্থিতিতেই ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট ও মমতা ব্যানার্জ্জীর বিপুল জয়লাভ। এর আগেই তৃণমূল রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে হাসান ইমরান আলীর মতো সিমির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদককে। এই হাসান ইমরান আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি সংস্রবের অভিযোগ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে; এমনকি ক্যানিং দাঙ্গাতেও এনার ভূমিকার কথা শোনা গেছে। এর সাথে যুক্ত হয় ২০১৬ তে ভোটে জেতার পরে সিদ্দীকুল্লার মতো কট্টরবাদীদের মন্ত্রীসভায় যোগদান।

রাজনৈতিক নেতারা তখনই কোন ধর্মীয় সংগঠনের মাথাদের গুরুত্ব দেন যখন এরা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপরে বেশ ভালরকম প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। সে যতই আমাদের বুদ্ধীজীবিরা প্রমাণ করার চেষ্টা করুন যে এঁরা মুসলিম সমাজের মুখ নন। আমার এই বুদ্ধিজীবীদের কাছে বিনীত প্রশ্ন — এঁরা যদি এঁদের সমাজকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা না রাখেন তাহলে রাজনৈতিক নেতারা এঁদের গুরুত্ব দেন কেন? এরা ধর্মের ভিত্তিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলেই রাজনৈতিক নেতারা এদের গুরুত্ব দেন। সেই কারণে ইমাম বরকতি তৃণমূলের সভামঞ্চ থেকে বলতে পারেন যে রাজনৈতিক দলের নেতারা ভোটের জন্য তার পায়ে ধরেন। ভোটব্যাংকের লক্ষ্যে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির এই ভণ্ডামিও সমাজে অসহিশ্নুতা বৃদ্ধির একটি অন্যতম কারণ।

২০১৬ তে কট্টরবাদী মুসলিমদের মন্ত্রীসভায় যোগদানের ফলে মুসলিম সমাজের চরমপন্থী অংশগুলি আরও উৎসাহিত হয়। তারা বুঝতে পারে পূর্বতন সরকার তোষণের জন্য অবৈধ অধিবাসীদের ভোটার বানিয়ে বৈধ নাগরিক বানাতে চেষ্টা করেছে। এই সরকার তাদের ভোটার তো বানাবেই, সেই সঙ্গে তাদের দাবী দাওয়াও মেনে নেবে।

বস্তুত তোষণের নয়া নজীর তৈরি করে বর্তমান সরকার বাংলা ভাষাকেও পরিবর্তন করে ফেলতে চেষ্টা করছে। রামধনু কে রংধনু করে দেওয়া হচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে ২০১৬ তে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে স্কুলে সরস্বতী পূজা বন্ধের দাবী ওঠে ও নবী দিবস পালনের দাবী ওঠে। এর আগে স্কুলে নবী দিবস পালনের কোন নজির পশ্চিমবঙ্গে দেখা যায়নি। এই দুই দাবীকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার তেহট্ট, এমনকি মুসলিমরা যেখানে মাত্র ৮% সেই বাঁকুড়াতেও এক গ্রামে হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। সেই সাথে ছিল মহরমের জন্য দূর্গা পূজার বিসর্জন পিছিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা।

 

বীরভুমে রামনবমী [সৌজন্যে — পি টি আই]
এতে করে একদিকে যেমন কট্টর মুসলিম সংগঠনগুলি উৎসাহিত হয়েছে, অপরদিকে হিন্দুদের মধ্যে জন্ম দিয়েছে অসন্তোষের। যার ফলশ্রুতিতে গত দূর্গা পূজার পরে চন্দননগর, নৈহাটির মতো আপাত শান্ত জায়গাতেও হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়। বস্তুত বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এক বারুদের স্তূপ, যা যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হবে।

এরই সাথে সাথে আরেকটি ঘটনাও পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে, তা হল উত্তর প্রদেশের ভোটে বিজেপির বিপুল জয়লাভ এবং যোগী আদিত্যনাথের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহন। এই ঘটনার পর এবং বিরোধীদের ছত্রভঙ্গ অবস্থা দেখে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ২০১৯-এ মোদীর জয়লাভের সম্ভাবনা অন্য যে কারুর থেকে বেশী।

বাংলাদেশ থেকে আগত অবৈধ বাংলাদেশিরা একসময় পশ্চিমবঙ্গেই ডেরা বাঁধত। কিন্তু এখন পশ্চিমবঙ্গের বেহাল অর্থনৈতিক অবস্থার ফলে এরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে সারা ভারতে ছড়িয়ে পরছে। এমনকি কয়েকটি সংবাদে কেরল বা গোয়াতেও অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরা পরার খবর এসেছে। সাধারণভাবে অবৈধ বাংলাদেশিরা উত্তরপূর্বের আসাম, ত্রিপুরা আর পশ্চিমবঙ্গেই নিজেদের ডেরা বাঁধে। অসমে বিজেপি সরকার আসার পরে সেখানে এন০সি০আর০ ও এন০পি০আর০ প্রকল্পের ফলে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকত্ব হারিয়েছে। এখন উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিপুল জয়লাভের দরুন ২০১৯ এ নরেন্দ্র মোদীর বিপুল জয়লাভের সম্ভাবনা এই অবৈধ অধিবাসীদের শঙ্কিত করে তুলেছে। অসমের মত এন০পি০আর০ ও এন০সি০আর০ প্রকল্প যদি অদূর ভবিষ্যতে এই রাজ্যেও চালু হয় আর তারপরে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল হয় তাহলে তাদের সমূহ বিপদ।

বস্তুত এই রাজ্যে ইতিমধ্যেই অনেক অবৈধ অধিবাসী আধার কার্ডের জন্য নিজেদের নথিভুক্ত করতে পারেননি। এতে আগে রাজনৈতিক দলগুলি তোষণের স্বার্থে তাদের যে বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা দিত সেগুলো অনেকক্ষেত্রেই বন্ধ হয়ে গেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এই রাজ্যে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি ও হিন্দু সংহতির মত হিন্দুত্ববাদী সামাজিক সংগঠনের গ্রাম বাংলায় প্রভাব বৃদ্ধি। পশ্চিমবঙ্গে যে হিন্দুত্বের প্রভাব বাড়ছে তা এবারের রামনবমী পালনের মধ্যে দিয়েই প্রমাণ হয়ে গেছে। বস্তুত হিন্দু সংহতির মতো সামাজিক সংগঠনগুলির প্রভাব এতটাই যে হিন্দু সংহতির সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে গেলে মমতা ব্যানার্জ্জীকে ওয়েসীর অস্তিত্বহীন সংগঠনের সভাও নিষিদ্ধ করতে হয় ব্যালেন্স করার জন্য।

এই শঙ্কা থেকেই এই অবৈধ অধিবাসীরা ও তাঁদের রাজনৈতিক মদতদাতারা পশ্চিমবাংলায় এক ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে যাতে ভবিষ্যতে তাদের স্বার্থ অক্ষুন্ন থাকে। আর ঠিক এটিই কারণ ধূলাগড় বা বসিরহাটের দাঙ্গার। দুই ক্ষেত্রেই দাঙ্গা হয়েছে পূর্বপরিকল্পনা মাফিক। কোন সামান্য ঘটনাকে অজুহাত হিসাবে ব্যবহার করে দাঙ্গাগুলির সূত্রপাত। ধূলাগড়ে যেমন সূত্রপাত ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে ঘিরে, বসিরহাটে সূত্রপাত একটি ফেসবুক পোষ্ট থেকে। ঐ অঞ্চলে গরু ও সোনার পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়াতে অনেকের ব্যবসায়িক স্বার্থ খুন্ন হচ্ছে। বস্তুত কোন ঘটনার তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় হয়ত সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হতে পারে কিন্তু তা এমন দীর্ঘমেয়াদি দাঙ্গার সুত্রপাত ঘটাতে পারেনা। বসিরহাটে অনেক প্রত্যক্ষদর্শীই বলছেন দাঙ্গায় একটি গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে স্থানীয়রা দাঙ্গায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের নেতৃত্বে যারা ছিল তারা প্রত্যেকেই বহিরাগত। এই সূত্রের পুষ্টি ঘটে যখন শোনা যায় ৮ বাংলাদেশি নাকি ধরা পরেছে। এর আগে যখন ফ্রান্সের পত্রিকায় আপত্তিকর কার্টুন নিয়ে হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়েছিল, কলকাতায় তখন কিন্তু তা শুরু হয়ে দ্রুত থেমেও গেছিল। তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় হওয়া হাঙ্গামা দীর্ঘমেয়াদি হয়না কখনই। দীর্ঘমেয়াদি তখনই হয় যখন তার পেছনে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে।

বসিরহাট ও ধুলাগড়ের দাঙ্গার ধরণ যদি লক্ষ্য করা যায় তাহলে একটা প্রতিমান উঠে আসে। কলকাতার ভৌগলিক পরিস্থতি যদি লক্ষ্য করেন তাহলে দেখবেন আশপাশের অঞ্চল থেকে কলকাতায় প্রবেশের মূল পথ মোটামুটি ভাবে ৬টি। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-বারাসাত হয়ে, দক্ষিণ ও উত্তর চব্বিশ পরগনার ভাঙর এবং অপরদিকে ডায়মন্ড হারবার। হাওড়ার দ্বিতীয় হুগলি সেতু আর হাওড়া ব্রীজ হয়ে অর্থাৎ ধূলাগড় হয়ে ও জি০টি০ রোড হয়ে। অপরটি বালি ব্রীজ পেরিয়ে ‎দক্ষিণেশ্বর কামারহাটি হয়ে। আরেকটি উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর হয়ে। এবার যদি এই অঞ্চলগুলির জনবিন্যাস লক্ষ্য করা যায় তাহলে দেখবেন এই প্রত্যেকটি অঞ্চলই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বা আরও পরিষ্কার করে বললে বেশীরভাগ জায়গায় হিন্দুরাই সংখ্যালঘু। শুধুমাত্র জি০টি০ রোড সংলগ্ন অঞ্চল ছেড়ে। এবার দেখুন প্রথম দাঙ্গাটি হল ধুলাগড়ে, পরেরটি হোল বসিরহাটে। এর আগে ইতিমধ্যেই ক্যানিঙে ২০১০ সালে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়ে গেছে। গত দূর্গা পূজার সময়ে ব্যারাকপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ কলকাতার মূল প্রবেশপথগুলিতে গত কয়েক বছরে বারেবারে দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী ৬ থেকে ১০ মাসের মধ্য যদি দেখি দক্ষিন ২৪ পরগনার ভাঙরে অনুরূপ একটি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তাহলে বুঝব আমার এই পর্যবেক্ষন সঠিক। আর তুলনামূলকভাবে দুর্বল জি০টি০ রোড সংলগ্ন অঞ্চল অর্থাৎ জুট বেল্ট — যা কিনা মিশ্র জনবসতি অঞ্চল — সেখানেও এবার হাঙ্গামার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।

সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে এই দাঙ্গাগুলি আরও কোন বড় দাঙ্গার প্রস্তুতি পর্ব। খেয়াল করবেন যাকে আমাদের এক রাজনৈতিক নেতা গর্বের সাথে “মিনি পাকিস্তান” বলে বর্ণনা করেছিলেন সেখানে বা প্রবলভাবে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে কিন্তু ইতিমধ্যে কোন হাঙ্গামাই হয়নি। অথচ অতীতে সূদূর প্যারিসে কোন পত্রিকায় কিছু ছাপা হওয়ার জন্য এই অঞ্চলগুলিতে প্রবল হাঙ্গামার সৃষ্টি হয়েছিল। বস্তুত সব কিছু অনুধাবন করে এটাই মনে হয় এই সব ঘটনাই আসলে কোন বড় ঘটনা ঘটানোর আগের প্রস্তুতি। এগুলো আসলে হচ্ছেই দুটি কারণে। এক, নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য। দুই, প্রশাসন ও স্থানীয় হিন্দুরা কিভাবে ও কতক্ষনে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে সেটা দেখে নেওয়ার জন্য। যা কোন বড় ঘটনা ঘটানোর প্রস্তুতি হিসাবে একান্ত জরুরি।

২০১৯-এ যদি বিজেপি মোদীর নেতৃত্বে পুনরায় দেশজুড়ে বিপুলভাবে নির্বাচিত হয়ে ফিরে আসে, যার সম্ভাবনা যথেষ্ট, তাহলে সম্ভাবনা আছে পশ্চিমবঙ্গেও এন০পি০আর০ ও এন০সি০আর০ প্রকল্প চালু হওয়ার। ২০২১ সালের জনগণনা থেকেই যার সুত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা। তার ফলে হয়ত এইসব অঞ্চলের অনেক অবৈধ বসবাসকারী রাজনৈতিক দলগুলির দয়া-দাক্ষিণ্যে এখন যেসব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে সেগুলো থেকে বঞ্চিত হবে এবং ক্রমশঃ তাদের ভারতে বসবাস অসম্ভব হয়ে উঠবে। এই ঘটনার সুত্রপাত হলেই একটা বিশাল প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা। তারই প্রস্তুতিতে ক্যানিং, ধুলাগড়, বসিরহাটের দাঙ্গা। নবী দিবসের দাবী তুলে ও সরস্বতী পূজা বন্ধ করে বাঙালি হিন্দুদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা। ও একই সাথে স্থানীয় হিন্দুরা কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেয় তা দেখে নেওয়া।

এই সব অঞ্চলে মহিলা সংক্রান্ত অপরাধের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। বস্তুত নারী-সংক্রান্ত অপরাধ বৃদ্ধি হলে তখন এলাকার শান্তিকামী পরিবারগুলি একসময় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হবে। এতে দুষ্কৃতিরা আরও জাঁকিয়ে বসতে পারবে।এই সবের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ত্রাসের সৃষ্টি করে নিজেদের জন্য এক মুক্তাঞ্চল তৈরি করে নেওয়া যেখানে এদের কেউ ছুতে সাহস পাবেনা।

আরেকটি উদ্দেশ্য আছে। একদিকে যখন কলকাতা আক্রান্ত হবে তখন অপরদিকে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী অঞ্চল, মালদা, মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ন অঞ্চলে দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে গ্রেটার বাংলাদেশের জেহাদীদের স্বপ্নকে সফল করা। আর সেই সময় যদি জি০টি০ রোড সংলগ্ন অঞ্চলে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করা যায় তাহলে সেখানকার অধিবাসীরা কলকাতার অধিবাসীদের সাহায্যে আসতে পারবেনা।

আরেকটি বিষয় আলোচনা করা অত্যাবশ্যক তা হল গ্রেটার বাংলাদেশ নিয়ে জেহাদীদের দাবী আর কিছু অতি বাম্পন্থীর সেই দাবীকে সমর্থন। আপাতভাবে আপনার মনে হবে এই সমর্থন অতিবামদের একটি আবেগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন ইদানীং এই অতি বামদের একটা নতুন কার্যকলাপ, তাহল হিন্দুদের কোন ধর্মীয় উৎসব এলেই সংশ্লিষ্ট হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে নানারকম কুরুচিকর লেখা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া। আবার কখনও রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দকে নিয়ে অলীক পর্নোগ্রাফি।

আপাতদৃষ্টিতে আপানার মনে হতে পারে নাস্তিকতার জায়গা থেকে এইসব জিনিষের উৎপত্তি। কিন্তু খুব ভাল করে ভাবলে দেখবেন এগুলি কিন্তু আসলে লেখা হচ্ছে আপনার ভাবপ্রবণতাকে আঘাত করতে। এগুলোও একপ্রকার জল মাপা। গ্রামাঞ্চল বা আধা শহরগুলিতে ছোট বড় দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে দেখে নেওয়া হচ্ছে সেখানকার হিন্দুরা ঠিক কিভাবে ও কতক্ষণে প্রতিক্রিয়া দেন। ঠিক তেমনিই অতি বামেরা এইভাবে দেখতে চাইছে ঠিক কতটা হলে শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজ প্রতিক্রিয়া দেয় আর কি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া দেয়।

নকশাল বিভিন্ন সংগঠনগুলি যে বৈদেশিক শক্তির সাহায্য পায় তা কারুর অজানা নয়। সে যতই আপনারা “চীনের চেয়ারম্যান, আমাদের চেয়ারম্যান” এই দাবী নিয়ে হাসাহাসি করুন না কেন। বৈদেশিক অর্থ সাহায্য না পেলে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসম্ভার নকশালদের পক্ষে গড়ে তোলা সম্ভব ছিলনা কখনই। চীন এবং পাকিস্তান যে ভারতের দুই প্রধান শত্রু এ আমরা সবাই জানি। উত্তর ভারতের কাশ্মীরে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জেহাদ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তেমনিই উত্তর-পূর্বের জেহাদী সংগঠনগুলিও চায়না থেকে মদত পেয়ে আসছিল। এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকার আসার পরে এবং মোদী সরকারের বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে উত্তর-পূর্বের জেহাদী আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত। এটা কোনভাবেই চায়নার কাছে কাম্য নয়। তারা চায় উত্তর-পূর্ব ভারতে অস্থিরতা তৈরি করতে। একই সাথে পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে বাংলায়, এক সময় নকশাল আন্দোলনকে মদত দিয়ে যে অস্থিরতা তারা তৈরি করতে চেয়েছিল, তাই আবার তারা করতে চায়। এতে করে ভারতের সব প্রান্তেই অস্থিরতা তৈরি করা যাবে, ফলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর সরকারও বৈদেশিক ও আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। যা ভারতের উন্নতিকেই রোধ করবে।

নকশাল আন্দোলন আদর্শগত ফাঁক থাকার জন্য অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই এখন মাঠে-ঘাটে লড়াইয়ের দায়িত্বটা জেহাদীদের। বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে সেই কাজটাই তারা করছে। আর শহুরে মধ্যবিত্তের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের কাজটা করছে এই সব তথাকথিত অতিবাম বুদ্ধিজীবী। শহুরে মধ্যবিত্তরা সংখ্যায় অনেক অল্প হলেও এদের প্রভাব গ্রামীণ বাংলায় অনেকখানি। কাজেই সেই শহুরে মধ্যবিত্তদের মানসিকতায় বারবার আঘাত করে যদি তাদের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি করা যায় তা জেহাদের কাজেই সুবিধা করে। একথা নিশ্চয় কেউ অস্বীকার করবেন না যে বাংলাদেশের জেহাদী নেটওয়আর্ক পাকিস্তান ও চীনের মদতপুষ্ট।

মজার ব্যাপার হচ্ছে নকশাল আন্দোলন আর জেহাদ হাত ধরাধরি করে চলতে গিয়েই কিন্তু নকশাল আন্দোলন তার সমর্থন হারিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের পাকুড়ের ঘটনা থেকেই এটা বেশ ভালো ভাবে বোঝা যায়। পাকুড় ঝাড়খণ্ড ও মালদার সীমানায় আদিবাসী অধ্যুষিত একটি অঞ্চল। এখানের অধিবাসী ছিলেন মূলত আদিবাসীরা। এদের মূল উপার্জন ছিল পাথর খাদান থেকে। কিন্তু বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এখন পাকুড় সম্পূর্ণরূপে দখলই করে নিয়েছে বলা যায়। আর পরিস্থিতিতে নকশালরা নিষ্ক্রিয় থাকায় আদিবাসীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় ও পূর্বে তাদের কাছ থেকে যে সমর্থন মাওবাদীরা পেত সেই সমর্থন মাওবাদীরা হারায়।

যারা বসিরহাটের দাঙ্গার জন্য বিজেপি, আরএসএস এইসব টেনে আনছেন, তারা পুরো ঘটনা তলিয়ে ভাবছেননা। একদিকে পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক নেতাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাজনিত কারণে সহজ ভোট ব্যাংক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় বিভিন্ন চরমপন্থী ধর্মীয় নেতাদের অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান আর অত্যাধিক তোষণ যা হিন্দুদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে। মনে রাখবেন যতই হিন্দুত্বের হাওয়া বাড়ুক, এখনও এরাজ্যে বিজেপির ভোট ২০% নিচেই। কাজেই যে দলের ভোট ব্যাংক এখনও এত নগণ্য তাদের কথায় হঠাৎ করে এত মানুষ দাঙ্গা করতে নেমে পড়বেন সেটা ভাবাটা একটু অতিমাত্রায় সরলীকরন হয়ে যায়। দাঙ্গার সুবিধা বিজেপি বা আরএসএস পাচ্ছে মানেই এই নয় যে দাঙ্গাগুলি বিজেপি লাগাচ্ছে। তাহলে দেগঙ্গার বা ক্যানিঙ্গের দাঙ্গার কি ব্যাখ্যা?

একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে এই দাঙ্গাগুলি ভবিষ্যতের বড় কোন ঘটনার প্রস্তুতি। দাঙ্গার কারণ তৈরি করা হচ্ছে; সেই কারণ থেকে দাঙ্গার সূত্রপাত করা হচ্ছে, আর সেই দাঙ্গাকে ভবিষ্যতের বড় কোন দাঙ্গার প্রস্তুতি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কলকাতার জনবিন্যাসটাও খেয়াল করবেন। কলকাতার চারপাশে তথাকথিত সংখ্যালঘুরাই এখন সংখ্যাগুরু। আর কলকাতার মাঝে তো রাজাবাজার, তপসিয়া, ট্যাংরা, খিদিরপুরের মত জায়গা আছেই। যেখানে দিনে দুপুরে পুলিশও খুন হয়ে যায়, তারপরে এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতা তাদের বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং দুষ্কৃতীরা বেঁচেও যায়। যেখানে দেখা যায় শাসক দলের প্রভাবশালী নেতা কোন বিদেশী রাষ্ট্রের চর। যেখানে অস্ত্র জলের থেকেও বেশী সহজলভ্য। আর এইসব অঞ্চলগুলিতে এই মূহুর্তে দাঙ্গা হলে তা শহুরে মধ্যবিত্ত হিন্দুদের মনে সাংঘাতিক প্রভাব সৃষ্টি করে।

ইউ০পি০, অসমে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে আর কেরলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ও ভাষাগত কারণের জন্য অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কাছে তা অতো পছন্দের নয়। অতএব একটিই জায়গা তাদের জন্য বেঁচে আছে — তা হল পশ্চিমবঙ্গ।

সরকারী তোষণ নীতির ফলে পশ্চিমবাংলাতে হিন্দুদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে এই রাজ্যেও যদি বিজেপির শক্তিশালী হয়ে ওঠা এই অবৈধ অধিবাসীদের কাছে এক অশনি সংকেত। একটা জিনিষ খেয়াল করার মত — তা হল পশ্চিমবঙ্গে আজ অব্দি দিল্লী বা মুম্বাইয়ের মত কোন সরাসরি জেহাদী হামলা হয়নি। এর একটি কারণ হল পশ্চিমবঙ্গকে তারা নিজেদের সেফ হাউস হিসাবে ব্যবহার করছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে। দুই, সরাসরি কোন জঙ্গি হামলার ফলে তা মধ্যবিত্ত বাঙালির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টী করতে পারে যা জেহাদী কার্যকলাপের পথে বড় অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে। মনে রাখবেন ইসলামিক স্টেটের ভারতীয় মডিউলের বেশ কিছু জঙ্গি কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই ধরা পরেছে। পশ্চিমবঙ্গে তারা দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এক সন্ত্রাসের পরিবেশ গড়ে তুলতে চাইছে, যা মানুষের মনে এক দীর্ঘ মেয়াদি আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

ধর্মনিরপেক্ষতা খুবই ভাল জিনিষ কিন্তু ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে বালিতে মুখ গুঁজে থাকা কোন কাজের কথা নয়। এখনও সময় আছে ভবিশ্যতের এক বড় বিপদকে প্রতিহত করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার। কাজেই দাঙ্গার মধ্যে শুধুমাত্র রাজনীতি না খুঁজে প্রকৃত কারণগুলি অনুসন্ধান করুন ও সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করুন এবং অন্যদেরও, বিশেষ করে গ্রামীন বাংলাকে, তৈরি হতে সহায়তা করুন। কারণ বিপদটা ওদেরই সব থেকে বেশী।

Advt